আবুধাবু টেস্টের প্রথম দিন থেকেই লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে তো লড়াইটা প্রায় একপাক্ষিক-ই হয়ে গিয়েছিল। তবে সেদিকুল্লাহ অটল ও আফগান লোয়ার অর্ডারের অসাধারণ প্রতিরোধ এবং শেষদিকে বাংলাদেশের বেশকিছু সুযোগ মিসের কল্যাণে ড্র হয় এই লড়াই।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে আফগানিস্তান।
মঙ্গলবার গত দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মঙ্গলবার প্রথম সেশন শেষে ১ উইকেটে ৭১ রান করে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেটে ৬২ এবং শেষ সেশনে
পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই বেশ দৃঢ়তা দেখিয়েছে আফগানিস্তান। অবশ্য একটু ধাক্কাও ছিল। দিনের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে দৌড়ে রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো লাগে হাশমতউল্লাহ শহীদির পায়ে। সেই চোটের কারণে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরে অবশ্য হাশমত মাঠে ফিরেছেন।
হাশমত মাঠ ছাড়ার পর চাপের মধ্যে ব্যাটিংয়ে আসা ইকরাম আলিখিল অবশ্য বেশ ভালো সঙ্গ দিয়েছেন সেদিকুল্লাহ অটলকে। প্রথম সেশনের প্রায় পুরোটা উইকেটশূন্য কাটিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগমুহূর্তে ইকরাম আলিখিলকে হারিয়েছে আফগানরা। ৩৩ রান করে ফিরেছেন ইকরাম। ইবাদতের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ইকরাম।
সাতে নামা ইসমাত আলমের প্রতিরোধও ছিল দেখার মতো। একের পর এক বল ডিফেন্স করেই যাচ্ছিলেন তিনি। সেই প্রতিরোধ ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬০ বলে ৪ রান করে ফেরেন ইসমাত। দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় উইকেটটিও নিয়েছেন মিরাজই। ইনজুরিতে মাঠ ছাড়া হাশমত আবারও মাঠে ফিরে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি।
চা বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে মিরাজের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
উইকেটের এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে হাল ধরে ছিলেন অটল। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন চা বিরতির আগেই। মূলত, তার প্রতিরোধের কারণেই ড্রয়ের দিকে এগিয়েছে এই টেস্ট।
চা বিরতির পর ফেরেন অটল। তার ৩৩২ বলের প্রতিরোধ থামান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১১১ রান করে ফেরেন এই ওপেনার।
অটলের বিদায়ের পরপরই উইকেটের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরপর দুই বলে দুই রানআউট মিস করে বাংলাদেশ। এছাড়া ম্যাচের যখন ১১ ওভার ২ বল বাকি, তখন মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন কায়েস আহমেদ। তবে ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।
ওই সুযোগ মিসের পর ভালোভাবেই ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল আফগানিস্তান। তবে ৫ ওভার বাকি থাকতে হঠাৎ করেই অষ্টম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তবে ওই উইকেট কোনো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেনি। আগ্রাসন দেখিয়েই শেষ ৫ ওভার খেলেছেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলে ছক্কা মেরে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কায়েস।