আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ময়জেস হেনরিকস। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় নিজের জন্মভূমি পর্তুগালকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছেন এই ৩৯ বছর বয়সি অলরাউন্ডার। অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমে নতুন জার্সিতেই তুলে নিলেন এক চোখধাঁধানো সেঞ্চুরি।
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপীয় সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ‘সি’-তে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে ৫১ বলে ১১১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হেনরিকস। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। পর্তুগালের মাদেইরাতে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৪টি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে ও ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে হেনরিকসের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে পর্তুগাল নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে চেক প্রজাতন্ত্র ৮.৫ ওভারে ৫ উইকেটে মাত্র ২৪ রান তুলতেই বৃষ্টি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে খেলা আর না গড়ালে ডিএলএস পদ্ধতিতে পর্তুগাল ৯১ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে। ফিনল্যান্ডে চলমান এই টুর্নামেন্টে পর্তুগাল টানা চার ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে চমক দেখিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ইসরাইলের বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত ৬৬ রান করেছিলেন হেনরিকস। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫০ বা তার বেশি রান করার বিরল রেকর্ড গড়েন (অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৬২*)। পেশাদার ক্রিকেট জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের জন্মভূমিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা ক্রিকেটবিশ্বে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।