সবাইকে অবাক করে দিয়ে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ইংলিশ পেসার ক্রেইগ মাইলস। দীর্ঘ ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৫১২টি উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করার পরই মাত্র ৩২ বছর বয়সে এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই এই দীর্ঘ পথচলার ইতি টানলেন গ্লস্টারশায়ারের এই অভিজ্ঞ পেসার।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০১১ সালের মে মাসে গ্লস্টারশায়ারের হয়ে পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ক্রেইগ মাইলসের। কাউন্টি ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি সব ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৫১২টি উইকেট শিকার করেছেন। এর মধ্যে শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই রয়েছে ৩৬৮টি উইকেট (গড় ২৮.৫৮)।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে খেলেছেন মাইলস। ২০২১ সালে ওয়ারউইকশায়ারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। একই বছর লর্ডসে বব উইলিস ট্রফির ফাইনালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ জয়ে রাখেন অবিস্মরণীয় অবদান। এরপর গত গ্রীষ্মে সাত মৌসুম পর আবারও নিজের চেনা ঘর গ্লস্টারশায়ারে ফিরে এসেছিলেন এই পেসার।
চলতি মৌসুমের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কয়েকটি ম্যাচ খেলার পর থেকেই ক্রিকেট মাঠ থেকে দূরে ছিলেন মাইলস। পরবর্তী সময়ে সমর্থকদের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি তার অবসরের নেপথ্যের কারণ খোলাসা করেন।
তিনি জানান, পেশাদার ক্রিকেটের তীব্র চাপ এবং নিজের কাছ থেকে সব সময় অতি-উচ্চ প্রত্যাশা রাখার মানসিকতা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ওঠানামা এবং মানসিক চাপ আর বহন করতে পারছিলেন না। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ার তাকে যা দিয়েছে, সেটির জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং নিজের অর্জন নিয়ে গর্বিত।
ক্রেইগ মাইলসের এই কঠিন অথচ সাহসী সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন জানিয়েছে গ্লস্টারশায়ার ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে ১৬ বছর বয়সি তরুণ মাইলসের হাতে প্রথম ক্যাপ তুলে দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কাউন্টি ক্রিকেটে তার এই নিঃস্বার্থ অবদান ইংলিশ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।