হোম > খেলা > ক্রিকেট

ম্যাকাইয়ের মাইনফিল্ডে ব্যাটাররা বিধ্বস্ত

এম. এম. কায়সার

ম্যাকাইয়ের নতুন টেস্ট ভেন্যুতে প্রথম দিনটি যেন ব্যাটারদের জন্য কোনো ক্রিকেট ম্যাচ ছিল না, ছিল বেঁচে থাকার পরীক্ষা। দিনের শুরুতে এই সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। আর বাকি সময় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অসহায় অবস্থায় দিন পার করতে দেখা গেল । সারাদিনে পড়েছে ১৮ উইকেট। বাংলাদেশ শেষ ৬৪ রানে। জবাবে অস্ট্রেলিয়াও নিশ্চিন্তে রাত কাটাতে পারছে না। দিন শেষে তাদের স্কোর ৮ উইকেটে ১৬৫।

হিসাব মেলাতে বসলে প্রথম দিনের স্কোরবোর্ড অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই কথা বলছে। ১০১ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে তারা। কিন্তু দিনের শেষ দৃশ্যটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির। দিনের শুরুতে যে শরিফুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের শেষ ব্যাটার, দিন শেষে তিনিই হয়ে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার দুঃস্বপ্ন। ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন বাঁহাতি এই পেসার।

ম্যাচ এখনো অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয় পুরোপুরি আসেনি। বরং ১০১ রানের লিডের আড়ালে লুকিয়ে আছে স্বাগতিকদের অস্বস্তি।

টস জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, প্রথম বলেই তার উত্তর পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল স্টার্কের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাদমান ইসলাম। সেটা ছিল ম্যাকাই টেস্টের প্রথম বল। সেই-ই শুরু। বাকিটা সময় বাংলাদেশের ইনিংসকে মনে হলো তাসের ঘর। মিচেল স্টার্ক আক্রমণে আসছেন আর একেকজন ব্যাটার আউট হয়ে মাথানিচু করে ফিরছেন।

সাদমানের পথ ধরে তানজিদ হাসানও ফিরলেন শূন্যতে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও শূন্য। রিভিউ নিয়েও রক্ষা নেই, আম্পায়ার্স কলেই শেষ। মুমিনুল হক ৯। লিটন দাস শূন্য।

৭ ওভার শেষ হতে না হতেই ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের। স্কোর ১২। টেস্টে এটাই সর্বনিম্ন রানে বাংলাদেশের ৫ উইকেটের পতন।

এখানে শুধু স্টার্কের কৃতিত্ব খুঁজলে ভুল হবে। বল নিঃসন্দেহে বাড়তি বাউন্স পেয়েছে, সুইং হয়েছে দুই পাশেই। অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা লাইন-লেংথে ছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও ছিল আতঙ্ক, ভুল শটের তাড়াহুড়ো আর পরিস্থিতি পড়তে না পারার ব্যর্থতা। পুরো ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে ব্যাটাররা ভয় পাচ্ছেন। আতঙ্কে আছেন। ম্যাকাইয়ের মাইনফিল্ডে পরিণত হওয়া এই উইকেটে টিকে থাকার সব কৌশল যে ভুলে গেলেন ব্যাটাররা!

মুশফিকুর রহিম কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেন। ৪১ বল টিকে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড। শরিফুলের আগে মেহেদী হাসান মিরাজই ছিলেন ম্যাচের প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার, যিনি দুই অঙ্কে পৌঁছালেন। কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ টিকলেন না। ৩৯ রানে হাওয়া ৯ উইকেট।

বাংলাদেশের সামনে শুধু একটি প্রশ্ন—লজ্জার নতুন রেকর্ড কি অপেক্ষা করছে? শেষ ব্যাটার শরিফুল ইসলাম যেন সেখানেই গল্পটা একটু বদলে দিলেন। ১৯ বলে তিনটি চার মেরে ১৪ রান। দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ওটাই!

৩৪ ওভারে ৬৪ রানে শেষ বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের নায়ক মিচেল স্টার্ক। ৬ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১২ রান খরচ করে। মাত্র ২২ বলে ৫ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বল হাতে এমন নির্মম স্পেল খুব বেশি দেখা যায় না। ক্যারিয়ারে চতুর্থবার টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট পেলেন স্টার্ক। একই ইনিংসে ডেল স্টেইনকে পেছনে ফেলে টেস্ট উইকেটের তালিকায় উঠে গেলেন ১০ নম্বরে। তার টেস্ট উইকেট এখন ৪৪১।

প্যাট কামিন্স শিকার করলেন ৩ উইকেট। মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি একপেশেই হতে চলেছে।

কিন্তু ক্রিকেটের সব গল্প সব সময় স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না।

মাত্র ৬৪ রানের পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশ যখন ফিল্ডিংয়ে নামল, তখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছিল বিশাল সুবিধা তৈরির সুযোগ। ১৫০, ২০০ কিংবা তারও বেশি লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ। কিন্তু সে গল্পে প্রথম আঁচড় কাটলেন তাসকিন আহমেদ। ম্যাট রেনশ ৮ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। ওয়ান চেঞ্জ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসেই শরিফুল ইসলাম জানিয়ে দিলেন তিনি শুধু খেলতে নয়, খেলাতেও এসেছেন! ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট পান শরিফুল। ওপেনার ট্রাভিস হেড প্যাডে বল লাগিয়ে সেটাকে স্টাম্পে টেনে নিয়ে যান। চলতি সিরিজে টানা তিন ইনিংসে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হলেন ট্রাভিস হেড। সেই ওভারের পঞ্চম বলে শরিফুল ফের জ্বলে উঠলেন। এবার বোল্ড মার্নাস লাবুশেন। থাই প্যাডে লেগে বল গিয়ে আঘাত করল স্টাম্পে। ৪ রানে ফিরলেন লাবুশেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে টিকে থাকা তার জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন ৭৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটি আবার স্বাগতিকদের দিকে টেনে নিচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের ৬৪ রানের দুঃস্বপ্নের জবাব দিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

শরিফুল আবার আক্রমণে এলেন। ফের সাফল্য। ৪২ রানে স্মিথ এলবিডব্লিউ। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পেলেন না স্মিথ। স্মিথের আউটেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ফের মিনি ধস।

অ্যালেক্স কেরি ৫। বো ওয়েবস্টার প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ। প্যাট কামিন্স দ্বিতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। শরিফুলের বাউন্সার ঠেকাতে লাফিয়ে উঠে সরে দাঁড়াতে গিয়েও বলের লাইন থেকে নিজেকে সরাতে পারলেন না অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। মিচেল স্টার্ক ব্যাটিংয়ে এসেই বোল্ড। মাত্র ৩০ রানের মধ্যে এ সময় অস্ট্রেলিয়া হারায় ৫ উইকেট।

একদিনে দুদলের ব্যাটিংধস। কিন্তু পার্থক্য একটাই—বাংলাদেশকে ধসিয়েছেন স্টার্ক-কামিন্স, অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়ে রেখেছেন শরিফুল-তাসকিন। স্কোরবোর্ড বলছে, অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে। ১০১ রানের লিড তাদের হাতে। আরো ২ উইকেট আছে। ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত। সঙ্গে নাথান লায়ন।

প্রথম দিন শেষে সামান্য সুবিধায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এ সুবিধা এখনো নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ব্যাটিং। ৬৪ রানের ইনিংস কোনোভাবেই টেস্ট জেতার মতো ভিত্তি নয়। প্রথম ইনিংসেই এত বড় ধাক্কা খেয়ে এখন তাদের ম্যাচে ফিরতে হলে বল হাতে বাকি ২ উইকেট দ্রুত নিতে হবে। তারপর দ্বিতীয় ইনিংসে এমন ব্যাটিং করতে হবে, যা প্রথম ইনিংসের ক্ষতটা অন্তত কিছুটা ঢেকে দিতে পারে।

পারবে বাংলাদেশ? নাকি আজই শেষ হয়ে যাবে এই টেস্ট? এমন আশঙ্কাও রয়েছে বেশ!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৬৪/১০, ৩৪ ওভার (শরিফুল ১৪, তাইজুল ১১*, মিরাজ ১১, হাসান ১০; স্টার্ক ৬/১২, কামিন্স ৩/২৫, হ্যাজলউড ১/১৮)।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস : ১৬৫/৮, ৪০ ওভার (গ্রিন ৫১*, স্মিথ ৪২, হেড ২২, লায়ন ১০*; শরিফুল ৬/৩৫, তাসকিন ১/৪১, মিরাজ ১/৪)।

*প্রথম দিন শেষে

ভারতের ওড়িশা উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ ২৪ ক্রু সদস্য নিখোঁজ

এরদোয়ানকে ঠেকাতে মরিয়া ইসরাইল

পূর্বধলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

ব্যাটিংয়ে টেকনিক্যাল দুর্বলতার প্রশ্নটা উঠছে

‘ইরানে হামলার পর বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে’

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত সেনা সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পুরো বিশ্ব বুঝে গেছে ট্রাম্প বোকা: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

৬৪ অলআউটের ধরন-ধারণ

তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ওসি প্রত্যাহার

ছাত্রশক্তি নেতাকে মারধর করে ফেসবুক লাইভে হেনস্তা, অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে