মার্কো ইয়ানসেনের বিধ্বংসী বোলিং তোপে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৮ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অন করাল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে প্রোটিয়ারা।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ভালো হয়নি অজিদের। রাবাদা এবং সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। তবে চতুর্থ দিনে খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করেছে। ট্রাভিস হেড ৮৭ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন এবং অতিথি দলটি এখনও ১৭০ রানে পিছিয়ে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে রাবাদা ও হারমার ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন।
ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। আনরিখ নরকিয়া কুঁচকির চোটে পড়ে মাঠ ছাড়ার পর বল হাতে ত্রাস সৃষ্টি করেন মার্কো ইয়ানসেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার করে মাত্র ৯৯ রানে অজি ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন এই পেসার। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ সর্বনিম্ন অলআউট এবং ২০২৩ সালের পর টেস্টে ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার প্রথম ঘটনা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ (২৮)। এই ইনিংসের মাধ্যমেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বাদশ এবং রিক পন্টিং ও অ্যালান বোর্ডের পর তৃতীয় অস্ট্রেলীয় হিসেবে ১১,০০০ টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তবে পিঠের ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে চারে নেমে ব্যাট করতে পারেননি। এই টেস্টে ইনজুরিতে পড়েছেন একাধিক খেলোয়াড়। নরকিয়ার সঙ্গে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ভুগছিলেন জশ হ্যাজলউড।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪২৫ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। দলের হয়ে বড় অবদান রাখেন মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা এবং উইয়ান মুল্ডার। ৩২৬ রানের বিশাল লিড নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অন করায় প্রোটিয়ারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ৪২৫/৯ (ডি.)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস : ৯৯/১০ (স্মিথ ২৮, ইয়ানসেন ৫/৩৩, মুল্ডার ২/১৪ ও রাবাদা ২/৩৩)।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস (ফলো-অন): ১৫৬/৪ রান (হেড ৮৭*, রাবাদা ২/৩০, হারমার ২/৪৭)।
* চতুর্থ দিন শেষে