হোম > খেলা > ক্রিকেট

দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

বোলিং-ব্যাটিং দুটোতেই শুরুটা ভালো হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে ভালো শুরু করেও সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে ক্রেগ আরভিন এবং বোলিংয়ে ব্র‍্যাড ইভান্স টাইগারদের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন। ব্যাটিংয়ে মাত্র ১২৫ রানের ব্যবধানে সবগুলো উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। আর তাতে হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল টাইগাররা।

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করেন আরভিন। জবাব দিতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। কোনো ব্যাটারই ফিফটির দেখা পাননি। দলীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম।

টস হেরে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। নতুন বলে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ছিলেন তাসকিন আহমেদ। পাওয়ার প্লেতে একাই তুলে নেন ৩ উইকেট। ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়েকে টেনে তোলেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তাতে আড়াইশ' ছাড়ানো সংগ্রহ পাওয়া পেয়েছে রোডেশিয়ানরা।

ইনিংসের প্রথম ওভারটাই ছিল উইকেট-মেইডেন। ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক ইনসুইংয়ে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউ করেন তাসকিন। আরেক ওপেনার বেন কারানকেও ফেরান তাসকিন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১১ বল থেকে ৬ রান করেছেন এই ওপেনার। তিনে নামা তাফাদজওয়া সিগাও তাসকিনের শিকার হয়েছেন। দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপ বাড়লেও ভালো শুরু করেছিলেন সিগা। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ বলে করেছেন ১৬ রান।

দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর দেখে-শুনে খেলে ভিত গড়ার চেষ্টা করেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন। তাতে সফলও হয়েছেন তারা। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৫০ রান তোলেন। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভেঙেছেন সাইফ হাসান। ৮১ রান করে ফিরেছেন টেলর।

এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আরভিন। সেঞ্চুরি হাতছাড়া করা এই ব্যাটারকে ফেরান শরিফুল। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯৩ রান। এরপর সিকান্দার রাজা-ব্রাড ইভান্সরা দ্রুত ফিরলে আবারও চেপে ধরে বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামহুরি। দুজনে সমান ২১ রান করে অপরাজিত থেকেছেন। তাতে আড়াইশ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ দুটো করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল এবং সাইফ হাসান।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়েছিল বাংলাদেশের। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার অবশ্য ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ ঘটাতে পারছিলেন না। শুরুতে সাজঘরেও ফেরেন তিনি। দলীয় ৪৭ রানে প্রথন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৭ বলে ৯ রান করেছেন সৌম্য।

ওপেনিং জুটির পর আর তেমন সুবিধাই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের দশম ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন তানজিদ। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন তিনি।

আরেক ওপেনার বেন কারানকেও ফেরান তাসকিন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাসকিনের বলে লেগ বিফোর হয়েছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১১ বল থেকে ৬ রান করেছেন এই ওপেনার। তিনে নামা তাফাদজওয়া সিগাও তাসকিনের শিকার হয়েছেন। দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপ বাড়লেও ভালো শুরু করেছিলেন সিগা। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ বলে করেছেন ১৬ রান।

তানজিদ ফেরার মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ব্রাড ইভান্স। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ২৯ রানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় এবং সাইফ হাসান। দলীয় ৯৭ রানে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন হৃদয়। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন রাজা। ২১ বলে ১৩ রান করে আউট হন হৃদয়।

হৃদয় আউট হওয়ার পর ব্যাটিং ধ্বস হয় বাংলাদেশের। মাত্র ৩২ রানের ব্যবধানে পরের ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা। শুরুটা মোসাদ্দেক হোসেনের এলবিডব্লিউ দিয়ে। মাসাকাদজার বল হালকা ছোঁয়ায় লেগ সাইডে ঠেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন। বল গিয়ে লাগে মোসাদ্দেকের প্যাডে। আম্পায়ার সরাসরি আউটের ইশারা করেন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মোসাদ্দেক।

মোসাদ্দেকের বিদায়ের পর ফেরেন উইকেটে খানিকটা থিতু হওয়া সাইফ হাসানও। মাসাকাদজার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ। দলের বিপদে ভরসা হতে পারেননি নুরুল হাসান সোহানও৷ ইভান্সের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন বাউন্ডারিতে। শরিফুল ইসলামও ৪ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি।

১২৯ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন রিশাদ হোসেন। তবে সেই জুটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৩৩ বলে ২৩ রান করেন রিশাদ হোসেন৷ ১৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইভান্স। দুটো করে উইকেট নিয়েছেন সিকান্দার রাজা এবং মাসাকাদজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে- ২৭১/৮ (বেনেট ০, কারান ৬, সিগা ১৬, টেইলর ৮১, আরভিন ৯৩, রাজা ৪, মাধেভেরে ১৭, ইভান্স ৫, নিয়ামহুরি ২১*, মাসাকাদজা ২১*; তাসকিন ৩/৪৪, শরিফুল ২/৪৭, সাইফ ২/১৭)

বাংলাদেশ- ১৭২/১০ (তানজিদ ৪৬, সৌম্য ৯, শান্ত ৪, সাইফ ২৬, হৃদয় ১৩, মোসাদ্দেক ১১, সোহান ৫, রিশাদ ২৩, শরিফুল ০, তাসকিন ১৬*, মুস্তাফিজ ৬; ইভান্স ৪/৪৫, রাজা ২/২৮, মাসাকাদজা ২/১৮)

ওমানে জয়ে শুরু যুবাদের

জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ২৭২

‘নতুন সংস্করণ’-এর দ্রাবিড় ও শেবাগের আবির্ভাব

ম্যাকডোনাল্ডের ‘ঝুঁকি’ বনাম পোলকের ‘সম্ভাবনা’

আগামীকাল বাংলাদেশে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

লিটনের বদলি ইমন

টেলর-আরভিনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়াল জিম্বাবুয়ে

ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন লিটন

লিটন-হাসানকে ছাড়াই ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

১৪ বলের ফিফটিতে নিজের রেকর্ড ভেঙে ম্যাকগার্কের নতুন কীর্তি