হোম > খেলা > ক্রিকেট

২১ বছর পর আরেকটি ঐতিহাসিক জয়

বাংলাদেশের পেসে পিষ্ট অস্ট্রেলিয়া

এম. এম. কায়সার

একুশ বছর অপেক্ষার পর আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে কার্ডিফে রিকি পন্টিংদের হারিয়ে যে ইতিহাস লেখা হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে মিরপুরে তার নতুন সংস্করণ রচনা করল মেহেদি হাসান মিরাজের দল। বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি সহজ কোনো সন্ধ্যা হতে যাচ্ছে না। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ম্যাথু শর্ট। স্কোরবোর্ডে তখনো কোনো রান যোগ হয়নি। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের আঘাতে অস্ট্রেলিয়া হারায় দ্বিতীয় উইকেট। সেই যে খুঁড়িয়ে চলা শুরু অস্ট্রেলিয়ার, আর ওই দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলেনি তাদের। আক্রমণে এসে নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আরো ‘বেচারা’ করে দিলেন যেন!
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচজুড়েই অসহায় অবস্থা দেখিয়েছে সফরকারীদের। নাহিদ রানার গতি ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক দুঃস্বপ্ন। সিরিজ শুরুর আগে যার পেস নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, সেই নাহিদই আরেকবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পেশি ফোলালেন।
১৪৭.৩ কিলোমিটার গতির এক আগুনঝরা ডেলিভারিতে অজি অধিনায়ক জস ইংলিসের আউট দৃশ্যটি ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বলটিতে ছিল নিখুঁত গতি, লাইন ও লেংথের সমন্বয়। ইংলিস পেসে পরাস্ত হয়ে ব্যাটে খোঁচা লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তোলেন। নাহিদ রানার এই এক ডেলিভারিতেই দুদলের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠল।
৪১ রানে চার উইকেট নিয়ে নাহিদ ছিলেন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। তাসকিন ও মোস্তাফিজও দারুণ সহায়তা করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কোনো পর্যায়েই বড় জুটি গড়তে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। শেষদিকে ক্যামেরুন গ্রিন ও অ্যাডাম জাম্পা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা কেবল পরাজয়ের সময় বাড়িয়েছে; কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৯ উইকেট, তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৬ বলে ৯৪ রান। এমন অবস্থায় বজ্রপাতসহ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে আর মাঠে গড়ায়নি খেলা। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ জয় পায় ৮৬ রানে।
এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনজনের হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ তোলে ২৮৪ রান।
তবে ম্যাচের প্রকৃত নায়ক মোসাদ্দেক। ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। পরিস্থিতি বুঝে খেলা এবং ইনিংস নিয়ন্ত্রণে তার পরিপক্বতা বাংলাদেশের স্কোরকে শক্ত ভিত্তি দেয়। এরপর বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ১০ ওভারে ৩৭ রানে নেন দুই উইকেট। ফিল্ডিংয়ে নেন দুর্দান্ত একটি ক্যাচও। ব্যাট, বল ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই অবদান রেখে ম্যাচসেরা হন তিনি।
সব মিলিয়ে এটি ছিল বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ এক দলীয় পারফরম্যান্স। ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা, বোলিংয়ে আগ্রাসন, ফিল্ডিংয়ে তীক্ষ্ণতা এবং নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাস- সবকিছুতেই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। আর এই জয় আরেকবার প্রমাণ করল মিরপুরে বাংলাদেশ এখন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বীই নয়, বিশ্বের বড় দলগুলোকেও বলে-কয়ে হারানোর শক্তি রাখা দল।



সংক্ষিপ্ত স্কোর


বাংলাদেশ : ২৮৪/৮, ৫০ ওভার (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮, স্কট ২/৫৭ ও রেনশ ২/৩৫)।


অস্ট্রেলিয়া : ১৯১/৯, ৪২.২ ওভার (কনোলি ৩৫, কেরি ৪৭, গ্রিন ৫২*; নাহিদ ৪/৪১, মোস্তাফিজ ২/২৪ ও মোসাদ্দেক ২/৩৭)।


ফল : ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী।


ম্যাচসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন।

কার্ডিফ থেকে মিরপুর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই জয়ের সঙ্গী নাফিস

মিরপুরে ফিরে এলো কার্ডিফ কাব্য

মিরপুরের গ্যালারিতে বিশেষ অতিথি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পেল বাংলাদেশ

মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরি মিস, ২৮৪ রানের পুঁজি পেল বাংলাদেশ

৩০০ রানের পথে বাংলাদেশ

ফিফার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্লাতিনির দুই মামলা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

মিরপুরে কৌশল, অভিজ্ঞতা ও কন্ডিশনের লড়াই

জাকিরের সেঞ্চুরিতে ইমার্জিং দলের দাপুটে জয়