সালমান আগার ৩৩তম ওভারের শেষ বলে সামনে এগিয়ে লং অফের উপর দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান তানজিদ হাসান তামিম। তাতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তামিম প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান। আগে কখনোই নার্ভাস নাইন্টিজে না পৌঁছানো তানজিদ নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে কোনো ভুল করেননি। ধীরলয়ে এগোনোর পরিবর্তে সাবলীল ভঙ্গিতে এগিয়েই পূর্ণ করেছেন সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের ৩১তম ম্যাচ ও ৩০তম ইনিংসে এসে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে দুই ম্যাচ পর ওয়ানডেতে শতরানের সেঞ্চুরি জুটি পায় বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, বড় সংগ্রহের ভিতটাও আসে তার ব্যাটে ভর করে। তার ওই সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ২৯০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই বেশ সাবলীল ছিলেন তানজিদ তামিম। প্রথম ওয়ানডেতে সাবলীলভাবে শুরু করে ৬৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। এমন ইনিংসে আত্মবিশ্বাস পাওয়া তানজিদ তামিম অবশেষে নিজেকে প্রমাণ করলেন তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে। ১০৭ বলে ১০৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৭ ছক্কা।
দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম ছক্কা হাঁকান তানজিদ তামিম। হ্যারিস রউফের বলে ৮২ মিটারের এক ছক্কায় বল সীমানা পার করেন। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে তার ব্যাটে আসে দ্বিতীয় ছক্কা। এবারও বোলার হ্যারিস রউফ। তার করা ১৪২ কিলোমিটার গতির বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে ছক্কা হাঁকান। তার ইনিংসের তৃতীয় ছক্কাটা ছিল আরো দারুণ। এবার আবরার আহমেদকে তানজিদ হাঁকান ৮৪ মিটারের ছক্কা। ইনিংসে তার শেষ ছক্কাটা ছিল ৮৩ মিটার লম্বা। এমন বড় বড় ছক্কা হাঁকানো তানজিদ পুরো ইনিংসজুড়েই ছিলেন সাবলীল।
এমনসব ছক্কায় নিজেকে সাবলীল প্রমাণ করা তানজিদ তামিম দারুণ জুটিও গড়েছেন ম্যাচে। উদ্বোধনী জুটিতে সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন ১০৫ রান। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দিনে উদ্বোধনী জুটিতে প্রথমবার শতরান যোগ করার কীর্তিও গড়েন তিনি। এর আগে কখনো উদ্বোধনী জুটিতে সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে তানজিদ যোগ করতে পারেননি শতরান। উদ্বোধনী জুটিতে শতরান যোগের পর দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ৫৩ রান যোগ করেন তানজিদ। নিজে আউট হওয়ার আগে লিটন দাসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৩৬ রান। এমন দারুণ ইনিংস খেলার পথে সতীর্থদের দারুণ সঙ্গ দেওয়ার কাজটাও করেছেন তানজিদ।
২০২৩ সালে অভিষেকের পরের সময়টা তানজিদের জন্য ছিল বাজে অভিজ্ঞতার। প্রথম ৭ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ ছিল ১৬ রান। অষ্টম ইনিংসে এসে পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। এমন বাজে সময় কাটানো তানজিদ ওয়ানডেতে ধারাবাহিক হতে পারবেন এমনটাই তো ভাবনায় ছিল না। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা তার ওপর রেখেছেন ভরসা। ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত খেলা ১৭ ইনিংসে তার ব্যাটে এসেছে ৫৫৪ রান। ৩৪.৬২ গড়ে রান করা তানজিদ হাঁকান চার ফিফটি। হাফ সেঞ্চুরির সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এবার সেঞ্চুরির দেখাটাও পেলেন।
শুধু তা-ই নয়, সেঞ্চুরি করার পথে ৭ ছক্কা হাঁকান তানজিদ তামিম। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ানডেতে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড। এর আগে ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলার পথে লিটন হাঁকান ৮ ছক্কা। আরো এক ছক্কা হাঁকালে সেই রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারতেন তানজিদ তামিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি, তবে জানান দিয়েছেন এমনসব দারুণ ইনিংস খেলার সামর্থ্য রাখেন তিনি। ভবিষ্যতেও এমন ইনিংস খেলতে পারবেন।