অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে প্রথম টেস্টে ধরা দিয়েছিল দাপুটে এক জয়। তাতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের আশার আলো দেখা গেলেও ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টের চিরাচরিত পাঁচ দিনের আমেজ ফিকে করে দিয়ে মাত্র দুদিনেই শেষ হয়ে গেছে এই ম্যাচ। স্বাগতিকদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ এবং ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে ইনিংস ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টেস্টের বাকি তিন দিনের পরিকল্পনা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত নিজের হতাশা ঢাকেননি, বরং কিছুটা রসিকতার সুরেই উত্তর দেন। শান্ত বলেন, ‘দুদিনেই তো টেস্ট শেষ হয়ে গেল। বাকি তিন দিন আর কী করার আছে! ঘুমাব, শুয়ে থাকব।’
অধিনায়কের এই মন্তব্য ম্যাচ হেরে দলের ভেতরে থাকা হতাশা ও মানসিক ক্লান্তিকেই যেন উসকে দিল। পিচ ও উইকেটের আচরণ নিয়ে শান্ত জানান, ‘আমার মনে হয় দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা আরেকটু ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম। তবে ওরাও যখন ব্যাটিং করেছে, অনেক স্ট্রাগল করেছে। উইকেটটা অনেক কঠিন ছিল, এটা অবশ্যই মানতে হবে।’
কোনো অজুহাত না দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা অকপটে স্বীকার করে নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু বাজে শট ছিল। আমি কারো ওপরে আঙুল তুলতে চাই না। কারণ, দল হিসেবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি, ভালো ব্যাটিং করিনি। আমি আমার কথা বলতে পারি, আমি সেট হয়ে যে সময় আউট হয়েছি, এটা গ্রহণযোগ্য না। আমার ইনিংসটা আরেকটু লম্বা করা উচিত ছিল।’
দুই ইনিংস মিলিয়ে একাই ১০ উইকেট শিকার করেছেন মিচেল স্টার্ক। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাতেই ৫ উইকেট অতিথিদের বলতে গেলে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এ বাঁহাতি পেসার। তার আগুনে বোলিংয়ের সামনে রীতিমতো খাবি খেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
অস্ট্রেলিয়ার এমন কন্ডিশন ও দুর্দান্ত বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমি অজুহাত দিচ্ছি না, অনেক দল আছে যারা নিয়মিত খেলে, তারাও এ রকম ধসে পড়ে। আমরা খারাপ খেলেছি, পরিস্থিতি অনেক কঠিন ছিল; কিন্তু খেলোয়াড়রা সবাই চেষ্টা করেছে। অবশ্যই আমরা আরেকটু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম।’
প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টের এমন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাটারদের অতিরিক্ত ব্যর্থতা ও টেকনিক্যাল দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা না গেলে পরবর্তী সিরিজগুলোতেও এই চরম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হতে পারে বাংলাদেশকে।