জার্মানির বিধ্বংসী শুরু
আগের দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের চরম হতাশা পেছনে ফেলে এবার রাজকীয়ভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জার্মানি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নবাগত কুরাসাওকে ৭–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই দাপুটে জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও এখন নিজেদের করে নিয়েছে কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
ম্যাচটিতে ৭ গোল করার সুবাদে বিশ্বকাপে জার্মানির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯-এ। এর মাধ্যমে তারা ভেঙে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রেকর্ড। এতদিন ২৩৮ গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল সেলেসাওরা। কুরাসাওয়ের জালে গোল উৎসব করে ব্রাজিলকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিল জার্মানি। এই তালিকায় ১৫২ গোল নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
রেকর্ড গড়ার এই ম্যাচে জার্মানির আক্রমণভাগের শক্তির মহড়া দেখা গেছে। দলের ৭টি গোল এসেছে ৬ জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের পা থেকে।
ম্যাচের শুরুতেই ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও সহজে ছেড়ে দেয়নি। ম্যাচের ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেনসিয়ার দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে তারা।
কুরাসাওয়ের প্রতিরোধ অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের দারুণ হেডে আবারও লিড নেয় জার্মানি। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন কাই হাভার্টজ।
বিরতির পর ম্যাচ পুরোপুরি একতরফা হয়ে পড়ে। ৫২ মিনিটে তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা গোল করার পর একে একে গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিস উনদাভ। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির ৭–১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ।
বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে জার্মানির মতো পরাশক্তির বিপক্ষে একসময় সমতায় ফিরলেও, শেষ পর্যন্ত জার্মান আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় কুরাসাওকে। আর এই বিধ্বংসী জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দিল জার্মানি।
বিশ্বকাপের শীর্ষ ৩ গোলদাতা দল
জার্মানি: ২৩৯ গোল
ব্রাজিল: ২৩৮ গোল
আর্জেন্টিনা: ১৫২ গোল