ক্ষুব্ধ সুইস কোচ ইয়াকিন
ফিফার নতুন নিয়মের বলি হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সুইসরা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড এবং ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ আইন। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ম্যাচ শেষে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড শিবির।
কানসাসে ম্যাচটিতে দুই দলই সমানে সমানে লড়াই করছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ৭১ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সামনে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের ৭১ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর। তবে এই লাল কার্ডটি সাধারণ কোনো কার্ড ছিল না। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার অনুরোধে এই বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সংশোধনের আইন) নিয়মের অধীনে লাল কার্ড দেখা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হলেন এম্বোলো। এই সিদ্ধান্তের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সুইস তারকা।
রেফারির এই সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি তারা (ফিফা) রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই নিয়মের কারণেই আজকের ম্যাচটা শেষ হয়ে গেছে।'
ইয়াকিনের দাবি, এম্বোলোর ফাউলটি মোটেও বিপজ্জনক ছিল না এবং সেখানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। ম্যাচ শেষে এম্বোলোর মানসিক অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, 'সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। দলকে সে সহযোগিতা করতে পারেনি আজ। তার মতো আমরা সবাই ব্যথিত। এটা পুরোপুরি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।'
কোচের সুরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার। ম্যাচের রেফারিং এবং ভিএআর-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'আমি জানি না রেফারি কী করছিলেন। প্রথমার্ধে এরকম ফাউল আরও অনেকগুলো হয়েছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে তো এই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। তাহলে তো সবাইকেই হলুদ কার্ড দেখাতে হয়।'
ভিএআরের যত্রতত্র হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি বুঝতে পারছি না এরকম পরিস্থিতিতে ভিএআর কীভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। মাঠের রেফারিদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে দেওয়া উচিত।'
একটি নতুন নিয়ম এবং রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি দলের বিশ্বকাপের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে পারে, কানসাসের এই ম্যাচটি তারই এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।