হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

সেই ব্লকবাস্টার ব্রাজিল কোথায়?

এম. এম. কায়সার

ব্রাজিলের ফুটবল মানেই আনন্দের ছটা। দলবেঁধে একঝাঁক হলুদ প্রজাপতির নাচন। সেই ছন্দের তালে নেচে ওঠে ধমনি, রক্তকোষ! এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচের ক্যানভাসে চিরপরিচিত লাতিন ফুটবলের সেই বোল্ড, বিউটিফুল ফুটবলের ব্রাজিলকে যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
বিশ্বকাপে ব্রাজিল মানেই সাম্বার নাচ। তারা চায় বলের সঙ্গে ছন্দ, গতির সঙ্গে সৌন্দর্য, আক্রমণের সঙ্গে শিল্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা নাচছে যন্ত্রসংগীত ছাড়া। গাইছে তাল-লয়-সুরহীন কোনো গান। সেই নাচ তাই খ্যামটার মতো, সেই গান কেবলই বেসুরো।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় স্কোরবোর্ডে নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কিন্তু মাঠের ফুটবল? সেখানে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো খুব কমই আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিধ্বস্ত, ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা, অখ্যাত ফুটবলারদের নিয়ে গড়া একটি দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় হওয়ারই কথা ছিল। প্রশ্ন হলো, এই জয় কি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দেওয়া একটি দলের মতো ছিল? উত্তরটা স্পষ্ট—না।
দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ঝুলিতে মাত্র চার পয়েন্ট। একটি ড্র, একটি জয়। ফলাফলের হিসেবে বিপদে নয়, কিন্তু পারফরম্যান্সের হিসেবে এখনো নিজেদের পরিচয়ই খুঁজে বেড়াচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল করেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ব্রাজিল। মাথেউস কুনিয়া দুটি এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র একটি গোল করেন। কিন্তু বিরতির পর যেন পুরো দলই গতি হারিয়ে ফেলে। আক্রমণে ধার নেই, বলের গতি নেই, প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মানসিকতা নেই। বরং হাইতির মতো সীমিত সামর্থ্যের দলও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে। আরো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলে সেই ভুলগুলোর মূল্য হয়তো অনেক বড়ই হতো।
এই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত ভিনিনির্ভরতা। দুই ম্যাচেই দলের একমাত্র ধারালো অস্ত্র ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার গতি, ড্রিবলিং এবং ওয়ান টু ওয়ান পজিশন থেকেই এসেছে বেশির ভাগ বিপজ্জনক মুহূর্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো ম্যাচে যদি ভিনি নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারেন? যদি প্রতিপক্ষ তাকে ডাবল মার্কিংয়ে আটকে ফেলে? তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ কে টানবে?
রাফিনিয়া এখনো বার্সেলোনার সেই বিধ্বংসী উইঙ্গারের ছায়াও নন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীর, শেষ পাসে ভুল, সহজ গোল মিস, আর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পর্যন্ত ম্যাচে তার প্রভাব ছিল খুবই সীমিত। রদ্রিগোও নিজের মানের ধারেকাছেও নেই। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস, ক্যাসিমিরো কেউই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। একজন বল ধরে রাখছেন, অন্যজন পাস দিচ্ছেন, কিন্তু মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে সেই সৃজনশীল সংযোগটা তৈরি হচ্ছে না। ফলে আক্রমণের পুরো ভার এসে পড়ছে উইংয়ে, বিশেষ করে ভিনিসিয়াসের ওপর। তার সঙ্গে শেষ ম্যাচে লুকাস পাকেতো অবশ্য সমান তালে পারফরম্যান্স দেখান।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকেও আনচেলত্তির দল এখনো অগোছালো। বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং নেই। ফুলব্যাকরা ওপরে উঠে গেলেও তাদের পেছনের জায়গা বারবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দুই সেন্টারব্যাকের মধ্যকার দূরত্বও অনেক সময় বেড়ে যাচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিপক্ষ। মিডফিল্ডে ‘ডাবল পিভট’ ঠিকমতো রক্ষণকে সুরক্ষা দিতে পারছে না, আবার আক্রমণেও সংখ্যাগত সুবিধা তৈরি করতে পারছে না। ফলে দলটি একদিকে রক্ষণে ভঙ্গুর, অন্যদিকে আক্রমণে শুধু ভিনির ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই ব্রাজিলে এখনো সেই পুরোনো ‘জোগো বনিতো’র কোনো ছাপ নেই। নেই ওয়ান-টাচ ফুটবল, নেই অফ দ্য বল মুভমেন্ট, নেই আক্রমণে স্বতঃস্ফূর্ততা। খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলছেন না; চিরজীবন উপভোগের মন্ত্রে ফুটবল খেলে আসা সেই ব্রাজিল কই?
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতিকে হারিয়ে ব্রাজিল স্বস্তি পেয়েছে ঠিকই। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখানো দলের কাছে স্বস্তি যথেষ্ট নয়। তাদের দরকার আধিপত্য, ছন্দ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো ফুটবল।
এখন পর্যন্ত সেই ব্রাজিলকে দেখা যায়নি।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের নয়, নিজেদের সত্যিকারের পরিচয় ফিরে পাওয়ারও পরীক্ষা। কারণ বিশ্বকাপের নকআউটে প্রতিপক্ষ আর হাইতি হবে না। সেখানে ভিনিসিয়াস একা ম্যাচ জেতাতে পারবেন না। পুরো দলকে জেগে উঠতে হবে। নইলে পাঁচ তারকার জার্সি গায়ে রেখেও এই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা ১৯ জুলাইয়ের অনেক আগেই থেমে যেতে পারে।
১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনাল।

নকআউটের পথে এগোতে মুখোমুখি বেলজিয়াম-ইরান

তুরস্কের এমন বিদায় কেন, কী কারণে?

এলয় রুমের বিশ্বরেকর্ডে ইকুয়েডরকে রুখে দিল কুরাসাও

উন্দাভের জোড়া গোলে দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

হাজারতম ম্যাচ জয়ে রাঙাতে চায় জাপান

গাকপো-ব্রোবের জোড়ায় নেদারল্যান্ডসের বড় জয়

নক-আউটে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র, হাইতি-তুরস্কের বিদায়

রেকর্ডধারী সুকুরের ধারেকাছেও নেই গালারজার দ্রুততম গোল

মেসির ফাউল নিয়ে ফিফার কাছে আলজেরিয়ার অভিযোগ

অস্ট্রিয়া ম্যাচে নেই মন্তিয়েল, দুশ্চিন্তায় স্কালোনি