মরক্কোর সঙ্গে অস্বস্তির ড্রয়ের পর হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয়। চার পয়েন্টের পুঁজি নিয়ে তালিকার চূড়ায় অবস্থান করছে ব্রাজিল। অপেক্ষা এখন গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটের টিকিট কাটার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোরে শেষ ৩২ পর্বে নিজেদের নাম লেখানোর কাজটা সেরে ফেলতে চায় পাঁচবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লক্ষ্যটা সামনে রেখে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সেলেসাও শিবির। এ ম্যাচটি কেবল গ্রুপ পর্বের সাধারণ একটি ম্যাচই নয়, বরং স্কটিশদের জন্য এটি ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার এক সুবর্ণ সুযোগ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বৈশ্বিক মঞ্চে দুদল আবার একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তাদের শেষ দেখায় লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল।
মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের চিরচেনা ফর্মে ফেরে তারা। ম্যাথিউস কুনিয়ার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রথমার্ধের স্ট্রাইকে সহজ জয় পায় কার্লো আনচেলত্তির দল। এ জয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে রেকর্ড ৪১ বার কোনো ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছে সেলেসাওরা। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি (৩৬ বার)।
ফিফা র্যাংকিংয়ের পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রাজিল এ ম্যাচেও ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। হাইতির বিপক্ষে ‘কমপ্লিট পারফরম্যান্স’ দেখার পর আনচেলত্তির লক্ষ্য এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। গ্রুপসেরা হতে হলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের শুধু মরক্কো-হাইতি ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে ভালো করতে হবে; সেটা হলেও অন্তত ফলটা হতে হবে সমান। তবে ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা হলো, বিশ্বকাপে তাদের শেষ তিনটি গ্রুপ পর্বের পরাজয়ই এসেছে ম্যাচের তৃতীয় দিনে, যার মধ্যে কাতারে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলের হার অন্যতম। তাই ফিফা র্যাংকিংয়ের ৪১তম দল স্কটল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল স্কটল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই মরক্কোর কাছে একই ব্যবধানে (১-০) হার মানে কোচ স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা। ম্যাচের মাত্র ৭০ সেকেন্ডে ইসমায়েল সাইবারির দেওয়া গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। মরক্কোর বিপক্ষে কোনো অন-টার্গেট শট নিতে না পারলেও স্কটিশ কোচ দলের লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট। বিশেষ করে প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে তারা বিশ্বের শীর্ষ ১০ দলের একটির সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
এর আগের আট বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এবার সেই খরা কাটানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারাতে পারলে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষ দুইয়ে থেকে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত হবে। ম্যাচটি ড্র হলেও সেরা চার তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকবে। এমনকি ব্রাজিলের কাছে হেরে গেলেও অন্যান্য গ্রুপের সমীকরণে স্কটল্যান্ডের নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে থাকবে; তবে সে ক্ষেত্রে বড় ব্যবধানে হার এড়ানোই হবে প্রধান লক্ষ্য।
ব্রাজিল শিবিরের বড় ধাক্কা উইঙ্গার রাফিনহার ইনজুরি। হাইতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ায় এ ম্যাচে তিনি থাকছেন না। তার জায়গায় বোর্নমাউথের ১৯ বছর বয়সি তরুণ তারকা রায়ান ডান প্রান্তে সুযোগ পেতে পারেন। এদিকে ইনজুরি কাটিয়ে নেইমার জুনিয়র দলে ফিরলেও তিনি শুরুর একাদশে থাকছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন আনচেলত্তি। ফলে ১০ নম্বর পজিশনে লুকাস পাকেতাই খেলবেন, যিনি আক্রমণে ভিনিসিয়ুস ও কুনিয়াকে বল জোগান দেবেন। রক্ষণভাগে মার্কিনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েসের ওপরই ভরসা রাখছেন কোচ।
ইনজুরি কাটিয়ে স্কটল্যান্ড শিবিরে স্বস্তির হাওয়া বইছে। চোটের কারণে অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকা স্কট ম্যাককেনা, অ্যারন হিকি ও লুইস ফার্গুসন ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কোয়াডে ফিরতে পারেন। কোচ স্টিভ ক্লার্ক ব্রাজিলের আক্রমণভাগ সামলাতে রক্ষণাত্মক ও বাস্তবসম্মত কৌশল বেছে নিতে পারেন। মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ৩-৪-২-১ বা ৪-৪-১-১ ফর্মেশনই দেখা যেতে পারে এ ম্যাচে। মাঝমাঠে জন ম্যাকগিন ও স্কট ম্যাকটমিনায় মূল ভূমিকা পালন করবেন, আর আক্রমণভাগে চে অ্যাডামস শুরু থেকেই খেলতে পারেন।
ইতিহাস অবশ্য স্কটল্যান্ডের পক্ষে কথা বলছে না। ব্রাজিলের বিপক্ষে আগের ১০টি আন্তর্জাতিক দেখায় একটিতেও জিততে পারেনি স্কটিশরা; হেরেছে আটটি ম্যাচে এবং ড্র হয়েছে দুটি। এর মধ্যে বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় (১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮) তিনটিতেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের। বাকি একটি ম্যাচ থেকে গেছে অমীমাংসিত।
মিয়ামির মাঠে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে এই ইতিহাস বদলে দিয়ে স্কটল্যান্ড নতুন রূপকথা লেখে, নাকি ব্রাজিল তাদের আধিপত্য বজায় রেখে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে পৌঁছায়—তা দেখতেই মুখিয়ে রয়েছে পুরো ফুটবল দুনিয়া।
ফিফা র্যাংকিংয়ে অবস্থান
ব্রাজিল ৫
স্কটল্যান্ড ৪১
মুখোমুখি লড়াই ১০ ম্যাচ
ব্রাজিলের জয় ৮
স্কটল্যান্ডের জয় ০
ড্র ২
বিশ্বকাপে মুখোমুখি চার ম্যাচ
ব্রাজিলের জয় ৩
স্কটল্যান্ডের জয় ০
ড্র ১