রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। ৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এবারের বিশ্বকাপে আরো ভালো কিছু করার মতো দল ছিল তারা। এখানেই ব্রাজিলের শেষ দেখছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার মতে, এখান থেকেই নতুন করে আবার শুরু করবে তার দল। নরওয়ের কাছে হারের পর ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘ম্যাচে যা হয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিলে সবাই অনেক বেশি হতাশ। আমি বলছি না আমরা একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটিয়েছি। তবে আমরা একটি ভালো বিশ্বকাপ কাটিয়েছি। আমি মনে করি, আমাদের ম্যাচটি জেতা উচিত ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের হার মেনে নিতে হবে। এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এখন আমাদের নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে হবে, আরো উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি না এটি শেষ। আমি মনে করি এটি একটি নতুন চক্রের শুরু।’ আনচেলত্তির মতে, বর্তমান দল নিয়েই ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত লড়তে পারত। এমনকি নরওয়ে ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায়ও।
ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি শট মিস হওয়ার ঘটনা। ম্যাচের শেষদিকে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলে আফসোস বাড়ে ব্রাজিলিয়ানদের। যদি ব্রুনোর বদলে অন্য কেউ শটটি নিতেন, তাহলে হয়তো ম্যাচের দৃশ্যপট আরেক রকম হতে পারত। ব্রুনোর শট নেওয়া প্রসঙ্গে কোচ আনচেলত্তি জানান, পেনাল্টি কে কখন নেবে, সেটি চূড়ান্ত করে রেখেছিলেন দলের টেকনিক্যাল স্টাফরা। সে ক্রমধারায় ভিনিসিয়ুসের আগে নাম ছিল গিমারাইসের। আনচেলত্তি বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো ছিল নেইমার। তারপর ইগর থিয়াগো, তারপর রাফিনিয়া; এরপর ব্রুনো গিমারাইস। মার্তিনেল্লি ছিল এদের সবার পরে। আমরা ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তাকেই সেরা বলে মনে হয়েছিল আমাদের।’
পেনাল্টি শট প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ভিনিসিয়ূসও। তিনি জানান, কোচের সিদ্ধান্ত ছিল ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টি নেবে। স্বার্থপর খেলোয়াড় নন তিনি। ব্রুনো তারচেয়ে ভালো পেনাল্টি শট নেন। এ কারণেই কোচ ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন।
এদিকে পেনাল্টি মিসে ম্যাচ হারলেও শিষ্যদের বেশ প্রশংসা করেছেন কোচ আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘ফল ভীষণ হতাশাজনক এবং আমরা সবাই মর্মাহত। তবে দলটি দারুণ ছিল। ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা জান দিয়ে খেলেছে। ম্যাচটি আমাদের হারা উচিত হয়নি। তবে এই হার মেনে নিতে হবে।’