হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় ১৯ তারকা
ফুটবল মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল ৪৮ দল নিয়ে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে আট দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। একদিনের বিরতি কাটিয়ে গতকাল রাত থেকেই শুরু হয়েছে টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। তবে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে বড় ধরনের দুশ্চিন্তা ভর করেছে দলগুলোর শিবিরে। কোয়ার্টার ফাইনালে টিকে থাকা ৮টি দলের অন্তত ১৯ জন ফুটবলার রয়েছেন নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার ঝুঁকিতে। মাঠে নেমে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই, তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও মাঠের বাইরে বসে কাটাতে হবে সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
ঝুঁকিতে থাকা এই তালিকায় আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী পরাশক্তিরা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভীতি কাজ করছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো শিবিরে। মরক্কোর সর্বোচ্চ ৫ ও ইংলিশদের ৪ জন ফুটবলার নকআউট পর্বে ইতিমধ্যে একটি করে হলুদ কার্ড দেখে বসে আছেন। এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের ৩ জন করে এবং আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের ১ জন করে ফুটবলার এই সমীকরণের গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ হওয়ায় নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড- শেষ ৩২) যোগ হয়েছে। ফলে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে আগের চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি, অর্থাৎ মোট ৬টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। বাড়তি এই ম্যাচের কারণে খেলোয়াড়দের কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে এবার নতুন কার্ড নীতি প্রণয়ন করেছে ফিফা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগেই বাতিল হয়ে গেছে। তবে নকআউট পর্ব (শেষ ৩২ ও শেষ ১৬) শুরুর পর যারা ইতিমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কার্ড দেখলে ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরের ম্যাচ খেলতে পারবেন না।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর হলুদ কার্ডের এই খাতা আবারও নতুন করে শুরু হবে। অর্থাৎ, সেমিফাইনালের ম্যাচে কেউ হলুদ কার্ড দেখলেও কেবল কার্ডের সংখ্যার কারণে ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। তবে সেমিফাইনালে কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফাইনাল মিস করবেন। অন্যদিকে সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানোর এখতিয়ার রাখে।
গতকাল রাত থেকে শুরু হয়ে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ। এরপর ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ১৯ জুলাই বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে মেগা আসরের। এখন দেখার বিষয়, সেমিফাইনালের ওঠার আনন্দের পাশাপাশি এই ১৮ তারকার কতজন নিজেদের কার্ড বাঁচিয়ে মাঠে টিকে থাকতে পারেন।
ঝুঁকিতে আছেন যারা:
মরক্কো (৫ জন): আশরাফ হাকিমি, ইসা দিওপ, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস ও আজ্জেদিন উনাহি।
ইংল্যান্ড (৪ জন): জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, ও মার্ক গেয়ি।
ফ্রান্স (৩ জন): মানু কোনে, মাইকেল অলিসে, ও ব্রাডলি বারকোলা।
সুইজারল্যান্ড (৩ জন): গ্রানিত শাকা, ডেনিস জাকারিয়া, ও মিরো মুহাইম।
আর্জেন্টিনা (১ জন): গঞ্জালো মন্তিয়েল।
স্পেন (১ জন): ফেরান তোরেস।
বেলজিয়াম (১ জন): ব্র্যান্ডন মেচেলে।
নরওয়ে (১ জন): অ্যান্তোনিও নুসা।