বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া হলো না মিশরের। পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেও এক আত্মঘাতী গোলের কারণে জয় হাতছাড়া করতে হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে মোহাম্মদ সালাহদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে মিশর। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। অন্যদিকে তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে শুরুর একাদশে না রেখেই ম্যাচ শুরু করে বেলজিয়াম।
প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বেলজিয়াম তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল মিশর। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে সেই আধিপত্যেরই পুরস্কার পায় আফ্রিকার দলটি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত লিড।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। মাঝমাঠ ও রক্ষণে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলে তারা। বেলজিয়াম বারবার আক্রমণে উঠলেও মিশরীয় ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার কীর্তিও গড়ে তারা।
বিরতির পর প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বেলজিয়াম। সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইউরোপের দলটি। ৫৩তম মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার দারুণ শট পোস্টে আঘাত হানলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিশর।
তবে বেলজিয়ামের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ৬৬তম মিনিটে আসে সমতার গোল, যদিও সেটি আসে মিশরের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক উপায়ে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। আর এই একটি ভুলেই জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও দুই মূল্যবান পয়েন্ট হারায় মিশর। অন্যদিকে ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করা বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্বস্তি পায়।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উভয় দলই জয়সূচক গোলের খোঁজে চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও আত্মঘাতী গোলের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে, আর বেলজিয়ামকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ভাগাভাগি করা এক পয়েন্টে।