পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়েছে শেষ ষোলোর গণ্ডিতেই। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। সেই হতাশার পর সবচেয়ে কঠিন সমালোচনাটি এসেছে পর্তুগালেরই সাবেক তারকা রিকার্দো কোয়ারেসমার কাছ থেকে। রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে পর্তুগালের ফুটবল নিয়ে নিজের অসন্তোষ একেবারেই আড়াল করেননি ইউরো ২০১৬ জয়ী এই উইঙ্গার।
পর্তুগিজ দৈনিক রেকর্ড-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোয়ারেসমা বলেন, বিশ্বকাপে পর্তুগালের ব্যর্থতা কোনো এক ম্যাচের ফল নয়; পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দলটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই খারাপ ছিল। এমন একটি ম্যাচও ছিল না, যেখানে বলতে পারতাম পর্তুগাল দারুণ খেলেছে কিংবা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে।’
বিশ্বকাপে পর্তুগাল গ্রুপ পর্ব পার হলেও খেলায় ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল শুরু থেকেই। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণের গতি কিংবা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ; কোনো ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকতে পারেনি রবার্তো মার্টিনেজের দল। সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে কোয়ারেসমা বলেন, ‘পুরো ম্যাচটাই আমরা স্পেনের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। স্পেনই ঠিক করেছে কখন খেলবে, কখন গতি বাড়াবে, কখন কমাবে। তারা পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’
বিশেষ করে মার্টিনেজের কৌশল ও বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তও সন্তুষ্ট করতে পারেনি সাবেক এই তারকাকে, ‘কিছু (খেলোয়াড়) বদলি আমি বুঝতেই পারিনি। রবার্তো মার্টিনেজ কখনোই আমাকে মুগ্ধ করতে পারেননি। তিনি আসার পর থেকে আমি জাতীয় দলকে একটিও দুর্দান্ত ম্যাচ খেলতে দেখিনি। তিনি ৫০টা কৌশল চেষ্টা করেছেন, কিন্তু একটাও কাজ করেনি। সবাই বলছিল এটি নাকি পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা দল। কিন্তু সেরা কিসের? আমরা কী জিতেছি?’
২০২৩ সালে পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্টিনেজ ইউরো বাছাইপর্বে দুর্দান্ত ফল পেলেও বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হারের পর নিজের বিদায়ও ঘোষণা করেন এই স্প্যানিশ কোচ। তিনি বলেন, তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এখানেই তার অধ্যায়ের সমাপ্তি।
স্পেনের কাছে বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ও। আর সেই বিদায়ের পর পর্তুগিজ ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রবার্তো মার্টিনেজের ব্যর্থতা এবং কোয়ারেসমার স্পষ্ট ভাষার সমালোচনা।