হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

তুরস্কের এমন বিদায় কেন, কী কারণে?

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল তুরস্ককে। ২০০২ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। এরপর মাঝে বিশ্বকাপের ৫টি আসর গেলেও খেলার সুযোগ হয়নি দলটির। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়াটা তাই বেশ হতাশারই। এর আরেকটা কারণ, তারকাবহুল দল। এই দলে কে ছিলেন না? আর্দা গুলের, কেনান ইয়িলদিজ, হাকান চালহানওগলুদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে মাত্র দুই ম্যাচেই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। কেন এই বিদায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

লক্ষ্যহীন আক্রমণ

একটি দলের মূল শক্তি হলো আক্রমণের নিশানা ঠিক থাকা। একের পর এক আক্রমণ করেও যদি জাল খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সব মূল্যহীন। তুরস্কের বেলায় মূল কারণ হিসেবে এটাই ধরা যায়, লক্ষ্যহীন আক্রমণ। যার ফলে একের পর এক আক্রমণ করেও জালের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, চালহানওগলুরা। পরিসংখ্যানের হিসাবটা বেশ বিস্ময় জাগানিয়া। তুরস্কে দুই ম্যাচে মোট শট নিয়েছে ৬২টি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর মধ্যে একটি শটও তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে পারেনি। এর ফলে বিব্রতকর এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুই ম্যাচে এতগুলো প্রচেষ্টা নিয়েও গোলশূন্য থাকার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে তারা।

ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা

তুরস্কের বিদায়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ভয়াবহ ফিনিশিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০টি এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩২টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। অথচ ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—ম্যাচে আধিপত্য, বল দখল কিংবা আক্রমণের হিসেবে সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে গিয়েই বারবার খেই হারিয়েছেন তুর্কিরা। ফলে যথাযথ ফিনিশিংয়ের অভাবে দুই ম্যাচে একটি গোলও দিতে পারেনি তারা।

নম্বর নাইনের অভাব

তুরস্কের ম্যাচগুলোয় মাঝমাঠে বেশ ভালো পজিশনে ছিলেন মিডফিল্ডাররা। তারা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। আর্দা গুলের কিংবা কেনান ইয়িলদিজ সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগানোর মতো নির্ভরযোগ্য ‘নাম্বার নাইন’ ছিল না দলে। ফলে আক্রমণভাগে প্রকৃত স্ট্রাইকার না থাকার অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে দুই ম্যাচে। গোলের সামনে গিয়েও বারবার ভেঙে পড়তে হয়েছে তুর্কিদের। তুর্কি সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দলের স্কোয়াড গঠনের এই দুর্বলতা পুরো টুর্নামেন্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্যর্থতা আরো বেশি হতাশাজনক। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষ ১০ জন নিয়ে খেলেছে। সংখ্যাগত সুবিধা, প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল এবং একের পর এক আক্রমণ—সবকিছুই ছিল তুরস্কের পক্ষে। কিন্তু দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার মতো পরিকল্পনা কিংবা কার্যকর আক্রমণ কোনোটিই দেখা যায়নি। বরং অসংখ্য ক্রস ও দূরপাল্লার শট নষ্ট হয়েছে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে।

কোচের বেখাপ্পা কৌশল

কৌশলগত দিক থেকেও প্রশ্ন উঠছে কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলাকে নিয়ে। তার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা মাঝে মধ্যে রক্ষণভাগকে অরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে একপ্রকার ফাঁকা পোস্টের সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ। অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণ থেকে যে দুটি গোল করেছে, সেগুলো কোচের বেখাপ্পা কৌশলের ফল। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই গোল হজম করে নিজের পরিকল্পনা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছেন মনতেলা। এত দ্রুত পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে চাপ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।

অতিরিক্ত নির্ভরতায় ভরাডুবি

তুরস্কের ভরাডুবির আরেকটি বড় কারণ তারকা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দলটি কয়েকজন তারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। আর্দা গুলের ও কেনান ইয়িলদিজকে ঘিরেই বেশির ভাগ আক্রমণ গড়ে উঠছিল। এ বিষয়টি প্রতিপক্ষও আঁচ করতে পেরে তাদের কড়া মার্কিংয়ে আটকে দিয়েছে। তখন বিকল্প কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি তুরস্কের খেলায়। ফলে আক্রমণ হয়ে পড়েছিল একঘেয়ে ও অনুমানযোগ্য। এই সুযোগটাই নিয়েছিল প্রতিপক্ষ।

বিশ্বকাপে ২৪ বছর পর ফিরে এসে তুরস্কের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিভাবান প্রজন্ম থাকা সত্ত্বেও গোল করার অক্ষমতা, কৌশলগত দুর্বলতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তারা পরিণত হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটিতে। দুই ম্যাচে ৬২ শট, শূন্য গোল এবং শূন্য পয়েন্ট—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রা।

নকআউটের পথে এগোতে মুখোমুখি বেলজিয়াম-ইরান

সেই ব্লকবাস্টার ব্রাজিল কোথায়?

এলয় রুমের বিশ্বরেকর্ডে ইকুয়েডরকে রুখে দিল কুরাসাও

উন্দাভের জোড়া গোলে দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

হাজারতম ম্যাচ জয়ে রাঙাতে চায় জাপান

গাকপো-ব্রোবের জোড়ায় নেদারল্যান্ডসের বড় জয়

নক-আউটে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র, হাইতি-তুরস্কের বিদায়

রেকর্ডধারী সুকুরের ধারেকাছেও নেই গালারজার দ্রুততম গোল

মেসির ফাউল নিয়ে ফিফার কাছে আলজেরিয়ার অভিযোগ

অস্ট্রিয়া ম্যাচে নেই মন্তিয়েল, দুশ্চিন্তায় স্কালোনি