ম্যাচের প্রথম ধাক্কাতেই যেন কেঁপে উঠেছিল ইংল্যান্ড। ডিআর কঙ্গোর প্রথম আক্রমণেই গোল, আর এরপর গোলপোস্টের নিচে লিওনেল এমপাসির অবিশ্বাস্য সব সেভ; সব মিলিয়ে শেষ ষোলোয় বিদায়ের শঙ্কা ঘনিয়ে এসেছিল থমাস টুখেলের দলের সামনে। কিন্তু সেই অন্ধকার ভেদ করেই আলোয় ফিরেছে ইংল্যান্ড। আর সেই প্রত্যাবর্তনের মূলমন্ত্র হিসেবে কোচ টমাস টুখেল তুলে ধরলেন একটাই শব্দ—বিশ্বাস।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে হ্যারি কেইনের হেডে সমতা ফেরার পর ৮৬তম মিনিটে অধিনায়কের দুর্দান্ত আরেক গোলে নিশ্চিত হয় নাটকীয় জয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শুরুতেই প্রতিপক্ষের দেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন টুখেল। তবে শুরুটা যতই হতাশাজনক হোক, দলের মানসিক দৃঢ়তায় কখনো চিড় ধরেনি বলেই বিশ্বাস তার। টুখেল বলেন, ‘বিশ্বাসটুকু ধরে রেখেছিলাম। সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে শুরু করেছিলাম আমরা। ম্যাচের প্রথম শটেই, প্রথম গোল (ডিআর কঙ্গোর পেল)। এতে ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে গিয়েছিল। প্রথম কুলিং ব্রেকের পর, আমরা আধিপত্য করতে শুরু করলাম। আমার মনে হয়, আমাদের অনেক গোল পাওয়া উচিত ছিল। যারা বদলি নামল, তারা দারুণ চেষ্টা করল এবং আমরা জিতলাম। এই জয় আমাদের প্রাপ্য, অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাদের।’
ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে হতাশায় ডুবিয়ে রেখেছিলেন ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে তিনি প্রায় একাই ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন আফ্রিকার দলটিকে। তাই প্রতিপক্ষ গোলকিপারের প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড কোচ। একই সঙ্গে আস্তে আস্তে নিজের সেরা ছন্দে ফেরা অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপরও পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ড কোচ আরও বলেন, ‘যদি পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের এই মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। পরিস্থিতি কঠিন হলেও ধৈর্য্য এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারানো যাবে না। ছেলেটা (এমপাসি) অবিশ্বাস্য ছিল, যে সেভগুলো সে করল। কেইনও আরও ছন্দময় হয়ে উঠছে।‘
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে প্রথমবার পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেওয়ার নতুন ইতিহাস গড়েছে ইংল্যান্ড। আর টুখেলের বিশ্বাস, এমন কঠিন লড়াই পেরিয়ে আসা তার দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করলেও, এই প্রত্যাবর্তন ইংলিশ শিবিরকে শিখিয়ে দিয়েছে—বিশ্বাস অটুট থাকলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কোনো ম্যাচই শেষ হয়ে যায় না।