হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপে ইরাকের জার্সিতে পাকিস্তানের জিদান, বুটে আঁকা দু’দেশেরই পতাকা

স্পোর্টস রিপোর্টার

ইরাকের হয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন পাকিস্তানের জিদান ইকবাল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইরাকের পথচলাটা মোটেও সুখকর হলো না। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নরওয়ের মুখোমুখি হয়ে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে। মাঠের লড়াইয়ে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও এই ম্যাচটি ইরাক এবং দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। চার দশকের খরা কাটিয়ে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়েছে ইরাক, যার কৃতিত্ব স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইনের। তবে এই গোলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ২২ বছর বয়সি এক তরুণ মিডফিল্ডার— জিদান ইকবাল।

নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে জায়েদ ইসমাইলের পরিবর্তে যখন জিদান মাঠে নামেন, দল তখন হারের মুখে। ম্যাচে তিনি খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারলেও, মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই একটি অনন্য নজির গড়ে ফেলেন। বিশ্বের প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস গড়েন জিদান।

বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৯৮ নম্বরে থাকা পাকিস্তান ফুটবল দল কখনোই বিশ্বকাপের মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তাদের সাফল্য অত্যন্ত সীমিত। স্বাভাবিকভাবেই, পাকিস্তানের কোনো ফুটবলারের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন যখন অধরা, ঠিক তখনই বিশ্বমঞ্চে জিদান ইকবালের এই ঐতিহাসিক আত্মপ্রকাশ ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানিদের করেছেন গর্বিত।

ম্যানচেস্টারে জন্ম নেওয়া জিদানের পারিবারিক পরিচয় বেশ বৈচিত্র্যময়। তার বাবা পাকিস্তানি এবং মা ইরাকি। জন্মসূত্রে এবং মা-বাবার নাগরিকত্বের কারণে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ইরাক— এই তিন দেশের যেকোনো একটির হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার সুযোগ ছিল তার সামনে। তবে জিদান শেষ পর্যন্ত বেছে নেন মায়ের দেশ ইরাককেই।

ইরাকের জার্সি গায়ে জড়ালেও নিজের মিশ্র ঐতিহ্য ও বাবার দেশ পাকিস্তান নিয়ে বরাবরই গর্ববোধ করেন জিদান। এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, 'আমার বুটের বাঁ দিকে ইরাকের পতাকা এবং ডান দিকে পাকিস্তানের পতাকা থাকে। মানুষ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করে আমি কোন দেশের সঙ্গে বেশি জড়িয়ে। আমার কাছে দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, যা আমি গর্বের সঙ্গে বহন করি।'

জিদান ইকবালের ফুটবলের হাতেখড়ি বিশ্বখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যাকাডেমিতে। ২০২১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ম্যানইউর সিনিয়র দলের হয়ে মাঠে নেমে প্রথম ইরাকি ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। ক্লাব ফুটবলের সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ওই বছরই ইরাকের অনূর্ধ্ব-২৩ দলে ডাক পান এবং ২০২২ সালে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অভিষেক ঘটে।

নরওয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হার ইরাক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, আয়মান হুসেইনের গোল এবং জিদান ইকবালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ফুটবল বিশ্ব দীর্ঘকাল স্মরণে রাখবে।

রঙহীন রোনালদোয় পয়েন্ট হারাল পর্তুগাল, কঙ্গোর ক্যারিশমা

কালো মাস্কের আড়ালে অদম্য ফেরার গল্প

বাবা হত্যা আর ভাই নিখোঁজের ট্র্যাজেডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চের নায়ক আয়মান

ভোজিনিয়ার মায়ের জন্য ভিসার ব্যবস্থা করছে মার্কিন প্রশাসন

মেসিকে গোলের সুযোগ আমরাই করে দিয়েছি: আলজেরিয়া কোচ

চাকরি হারালেন তুরস্কের অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার

সবকিছুই এখন মেসির কাছে ‘বোনাস’

লিওনেল ‘রেকর্ড’ মেসি

গিনেস বুকে জায়গা করে নিলো কুরাসাও

ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি, অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার