অল ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ফ্রান্সের। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচের প্রথমার্ধে ফাবিয়ান রুইজ ও চার্লস ডি কেটেলিয়ারের গোলে দুটি দলই সমতায় ছিল। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, ঠিক তখনই স্পেনের ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন সুপার সাব মিকেল মেরিনো। তার ৮৮তম মিনিটের দুর্দান্ত গোলে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল স্পেন।
এই ঐতিহাসিক জয়ের রাতে স্পেনের ফুটবলাররা বেশ কিছু অনন্য রেকর্ড ও চোখধাঁধানো পরিসংখ্যানের জন্ম দিয়েছেন, যা নিচে তুলে ধরা হলো-
২
স্পেন তাদের ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। এর আগে প্রথমবার তারা সেমিফাইনালে উঠেছিল ২০১০ সালে, যেবার তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের শেষ দুটি কোয়ার্টার ফাইনালেই সফল হলো স্পেন। আগের চারবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে প্রত্যেকবারই তাদের হারের মুখ দেখতে হয়েছিল।
৯
২০০৬ সালের শেষ ১৬-র ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হারার পর থেকে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের টানা ৯টি ম্যাচে অপরাজিত স্পেন। যার মধ্যে রয়েছে ৭টি জয়, ২টি ড্র ও শূন্য হার। (উল্লেখ্য, পেনাল্টি শুটআউটে গড়ানো ম্যাচগুলো অফিশিয়ালি ড্র হিসেবে রেকর্ড করা হয়)।
৩৬
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৬টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড গড়েছে (২৭ জয়, ৯ ড্র, শূন্য হার)। এর মাধ্যমে তারা ২০০৭-২০০৯ এবং ২০১৮-২০২১ সালের করা নিজেদেরই টানা ৩৫ ম্যাচের অজেয় থাকার আগের রেকর্ডটি ভেঙে দিল।
১
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বের একাধিক ম্যাচে জয়সূচক গোল করার কীর্তি গড়লেন মিকেল মেরিনো। পাশাপাশি গত ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে ৮৭ মিনিটের পর দুটি জয়সূচক গোল করার রেকর্ডও গড়লেন তিনি।
২
আলভারো মোরাতা ও ফার্নান্দো মোরিয়েন্তেসের পর তৃতীয় স্প্যানিশ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে বদলি নেমে একাধিক (২টি) গোল করার তালিকায় যোগ দিলেন মিকেল মেরিনো।
১২
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয়হীন থাকার রেকর্ড এখন দাঁড়িয়েছে ১২টি ম্যাচে, যার মধ্যে শেষ ছয়টিতেই তারা হেরেছে।
২
১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের পেলে ও আলতাফিনির পর স্পেন দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুজন টিনেজারকে (লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি) মূল একাদশে খেলিয়েছে।
৬
ফিফা বিশ্বকাপে ইয়ামাল তার ষষ্ঠ ম্যাচটি খেললেন। ১৮ বছর বা তার কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড।
৭
ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল করা ফাবিয়ান রুইজ তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাত্র সপ্তম গোলটি করলেন।
৬৪৯
চার্লস ডি কেটেলিয়ারের গোলটি ছিল ২০২২ সালের গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পর বিশ্বকাপে স্পেনের জালে জড়ানো প্রথম গোল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়ে থামল তারা। বিশ্বকাপে এর আগের দীর্ঘতম ক্লিনশিটের রেকর্ডটি ছিল ইতাহির গোলকিপার ওয়াল্টার জেঙ্গার (৫১৭ মিনিট), যা আর্জেন্টিনার ক্লাউডিও কানিজিয়া ভেঙেছিলেন।
০ এবং ৮
৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলিয়ারের গোলের পর বেলজিয়াম ম্যাচে আর একটি সুযোগও (০) তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে, এরপর থেকে স্পেন একচেটিয়া খেলে আট (৮)টি সুযোগ তৈরি করেছিল।
১১
এই টুর্নামেন্টে স্পেনের করা মোট গোল সংখ্যা ১১টি, যা একক বিশ্বকাপে তাদের করা যৌথ সর্বোচ্চ গোল। ১৯৮৬ সালেও তারা ১১ গোল করেছিল। এটি ২০১০ সালের শিরোপা জয়ের আসরের চেয়েও ৩টি গোল বেশি।
৮
স্পেন এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তাদের পোস্টে সবচেয়ে কম মাত্র ৮টি শট হজম করেছে, যার দুটি ছিল বেলজিয়াম ম্যাচে। গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপে কমপক্ষে ৫টি ম্যাচ খেলা দলগুলোর মধ্যে এটি যৌথভাবে সর্বনিম্ন শট হজমের রেকর্ড (২০১৮ সালে ব্রাজিলও ৫ ম্যাচে ৮টি শট হজম করেছিল)। তবে ১৯৬৬ সালের পর থেকে স্পেনই একমাত্র দল, যারা ৬ বা তার বেশি ম্যাচ খেলেও অন-টার্গেট শটের সংখ্যা সিঙ্গেল ডিজিটে রাখতে পেরেছে।
২ ও ৩
বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ের ২ নম্বর দল স্পেন এবং ৩ নম্বর দল ফ্রান্স সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৪ সালের পর এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দলের দুটি দল সেমিফাইনালে উঠল। অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের পর থেকে কখনো ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দলেরই একসঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার ঘটনা ঘটেনি। এবার সেই দুর্লভ ঘটনার চমৎকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, কারণ আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের সামনেও সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।