বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল আইভরি কোস্ট। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হতো আইভরি কোস্টের। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তারা। তারই ফল হিসেবে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।
প্রথম গোলটির সূচনা করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিয়োমান্দে। কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে পেপের কাছে বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ নষ্ট করেননি পেপে। সহজ ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রাখে আইভরি কোস্ট। ৬৪তম মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পেপে। এরপর তিন মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ, যাতে ৩০ জুনের নকআউট ম্যাচের আগে বিশ্রাম পান এই ফরোয়ার্ড।
এই জয়ে গ্রুপের রানারআপ হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। আগামী ৩০ জুন নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘আই’ গ্রুপের রানারআপ—ফ্রান্স অথবা নরওয়ে।
আইভরি কোস্টের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪—টানা তিন বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গ্রুপপর্বের বাধা পেরোতে পারেনি তারা। দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাও শেষ ম্যাচে জিতলে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখানো ক্যারিবীয় দেশটি শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হলো তাদের।
গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লড়াই করেও ২-১ গোলে হারে। তবে শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে কোনো ভুল করেনি আফ্রিকার দলটি।