বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি—ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম শিরোপার খোঁজে থাকা ইংল্যান্ডকে থামাতে ইতোমধ্যেই নিজেদের রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবল দুনিয়ার সব নজর যখন জুড বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইনের দিকে, ঠিক তখন আর্জেন্টিনার ক্রীড়া গণমাধ্যম ভিন্ন এক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সামনে এনেছে। তাদের মতে, ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে দলটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইসকে অকার্যকর করার মধ্যে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ব্রুনো ডিস্টেফানোর মতে, থ্রি লায়ন্সদের মাঝমাঠের প্রধান ভরসা ডেক্লান রাইসকে যদি চাপে ফেলা যায়, তবে ইংল্যান্ডের স্বাভাবিক আক্রমণভাগের ধার অনেকটাই কমে যাবে। এই পরিকল্পনার মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো—
হাই-প্রেসের মুখে ডেক্লান রাইস যখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে বা গোলপোস্টের দিকে পিঠ ফিরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন তাকে কড়া পাহারায় রাখতে হবে। এই অবস্থায় তাকে বল রিসিভ করতে বাধ্য করলে ইংল্যান্ড তাদের বিল্ড-আপ প্লের মূল গতি হারিয়ে ফেলে।
ইংল্যান্ডকে সরাসরি দীর্ঘ পাসে বাধ্য করা রাইসের মাধ্যমে মাঝমাঠে বলের মসৃণ আদান-প্রদান ব্যাহত হলে ইংল্যান্ড অনিচ্ছাকৃতভাবেই উইং বা ফরোয়ার্ডে লম্বা পাসে খেলতে বাধ্য হবে। যদিও হ্যারি কেইন শূন্যে বলের দখল নিতে পারেন, কিন্তু এ ধরনের ডিরেক্ট প্লে ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
জুড বেলিংহামের দিকে বলের জোগান দেওয়া ডেক্লান রাইসের ওপর প্রেশার সৃষ্টি করার মাধ্যমে বেলিংহামের কাছে নিখুঁত বল পৌঁছানো বন্ধ করা সম্ভব হবে। ফলস্বরূপ, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে আক্রমণ শানানোর প্রয়োজনীয় জায়গা ও সময় পাবেন না।
ডিস্টেফানোর কৌশলগত বিশ্লেষণ অনুসারে, ডেক্লান রাইস ছাড়াও ইংল্যান্ডের গেমপ্ল্যানে বেশ কয়েকটি ফাঁকফোকর রয়েছে, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে—
ইংল্যান্ড দল সাধারণত ম্যাচের প্রথম ১৫-২০ মিনিট ছন্দ ফিরে পেতে লড়াই করে। আর্জেন্টিনা যদি শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে আক্রমণ শুরু করে, তবে টুখেলের ডিফেন্সিভ সেটআপ ভেঙে দেওয়া সহজ হবে।
বল কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাহুয়েল মলিনা এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো ডিফেন্ডারদের উইং দিয়ে দ্রুত ওপরে উঠে আক্রমণভাগের সঙ্গে যোগ দিতে হবে, যা ইংল্যান্ডের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াবে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টের ক্লান্তি আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচের শেষভাগে এই ক্লান্তি ইংল্যান্ডের পরাজয়ের কারণ হতে পারে।
মিডফিল্ড অচল করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের দুই মূল স্তম্ভ কেইন-বেলিংহামকে নিয়ে কড়া সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে টি ওয়াইসি স্পোর্টসের ব্রুনো ডিস্টেফানো বলেন, ‘বেলিংহাম কেবল একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার নন, খেলা বদলে দেওয়া মূল কারিগর। কেইনের ফাঁকা করে দেওয়া স্পেস ব্যবহার করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে কেইন এখন শুধু গোল করাতেই সীমাবদ্ধ নন, নিচে নেমে মাঝমাঠ ও উইঙ্গারদের দারুণভাবে লিংক-আপ করেন।’
জুড বেলিংহাম বা হ্যারি কেইনকে সরাসরি ম্যান-মার্কিং করার চেয়ে, ডেক্লান রাইসকে নিষ্ক্রিয় করে তাদের বল সরবরাহ লাইন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াই হবে আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিশ্চিত করার সেরা কৌশল।