বিশ্বকাপে ক্লাবের শ্রেষ্ঠত্ব
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই জাতীয় পতাকার গৌরব, দেশের জার্সিতে বিশ্বজয়ের উন্মাদনা। সেখানে ক্লাবের কোনো দাপ্তরিক অস্তিত্ব নেই। তবে মাঠের খেলায় প্রিয় ক্লাব তারকাদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকে কোটি ভক্তের। কাতার বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাব থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক ফুটবলার অংশ নিয়েছেন—এ তথ্য ফুটবলপ্রেমীদের নখদর্পণে। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে কোন ক্লাবের ফুটবলার সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন?
ব্রাজিলের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র পরিসংখ্যানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘গাতো মেস্ত্রে’র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই রোমাঞ্চকর উত্তর। প্রায় এক শতাব্দীর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪৯২ ক্লাবের ফুটবলাররা অন্তত একটি করে গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে এ তালিকার চূড়ায় অবস্থান করছে জার্মানির সফলতম ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ।
বিশ্বকাপ মঞ্চে গোলের হিসাবে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আধিপত্য একচেটিয়া। তবে শীর্ষ তিন জায়ান্টের মধ্যকার ব্যবধান এতটাই কম যে, যেকোনো টুর্নামেন্টেই এ তালিকায় ওলটপালট হয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে ৭৯টি গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে স্প্যানিশ পরাশক্তিরা। মাত্র এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ৭৮টি গোল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সার চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে থেকে ৭৭টি গোল নিয়ে তিনে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। শীর্ষ পাঁচের বাকি দুটি ক্লাব ইতালির। ৭১ গোল নিয়ে ইন্টার মিলান চতুর্থ এবং ৫৯ গোল নিয়ে জুভেন্টাস রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
বিশ্বকাপের শীর্ষ পাঁচের পুরোটাই ইউরোপের দখলে থাকলেও লাতিন আমেরিকার ক্লাবগুলোও পিছিয়ে নেই। ইউরোপের বাইরে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটি উরুগুয়ের ১৩৪ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পেনারোলের। ক্লাবটির ফুটবলাররা উরুগুয়ে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে ৩৯টি গোল করেছেন। বিশ্বব্যাপী সব ক্লাব মিলিয়ে পেনারোলের অবস্থান নবম।
লাতিন ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ক্লাবগুলোর মধ্যেও রয়েছে দারুণ লড়াই। ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল এসেছে ভাস্কো দা গামার ফুটবলারদের পা থেকে। তাদের মোট গোলসংখ্যা ২৯ (বিশ্বতালিকায় ১৪তম)।
অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলোর মধ্যে ২২ গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছে রিভার প্লেট (বিশ্বতালিকায় ২৫তম)।
ফুটবল বিশ্বে এশিয়ান অঞ্চলের ক্লাব ফুটবলের অগ্রগতি হলেও বিশ্বকাপের গোলের এ ঐতিহাসিক শীর্ষ ২৫-এর তালিকায় এশিয়ার কোনো ক্লাব এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি।
জাতীয় দলের টুর্নামেন্ট হলেও পর্দার আড়ালে ক্লাবগুলোর এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই বিশ্বকাপের আবহকে আরো বেশি রোমাঞ্চকর করে তোলে। আগামী বিশ্বকাপগুলোতে বায়ার্ন তাদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে, নাকি বার্সা-রিয়াল তাদের টপকে যায়—তা দেখতে মুখিয়ে থাকবেন ফুটবল পরিসংখ্যানবিদরা।