ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ২০২৬ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ট্রান্সফারমার্কেটের অ্যাডমিনদের তৈরি একটি পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে সবার ওপরে রাখা হয়েছে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। তবে তার পেছনেই রয়েছেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল ও ফ্রান্সের সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে।
প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিংয়ে খেলোয়াড়দের সম্ভাবনাকে পাঁচটি ভাগে সাজানো হয়েছে—ফেভারিট, কনটেন্ডারস, ইন দ্য মিক্স, আউটসাইডার্স ও আনলাইকলি।
ফেভারিট হ্যারি কেইন
র্যাঙ্কিংয়ের ‘ফেভারিট’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা পেয়েছেন হ্যারি কেইন। গোল করার দক্ষতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ব্যক্তিগত এই পুরস্কারের আলোচনায় ইংলিশ তারকাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
কেইনের পরেই ইয়ামাল ও এমবাপ্পে
‘কনটেন্ডারস’ বা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তরুণ বয়সেই অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা ইয়ামাল এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় এমবাপ্পে—দুজনই ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আলোচনায় রদ্রি, মেসি ও অলিসে
‘ইন দ্য মিক্স’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন স্পেনের রদ্রি, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে। অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও মাঠের প্রভাবের কারণে এই তালিকার খেলোয়াড়দেরও সম্ভাবনার বাইরে রাখা যাচ্ছে না।
আউটসাইডার্স তালিকায় দেম্বেলে ও কাভারাস্কেইয়া
‘আউটসাইডার্স’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন জর্জিয়ার খভিচা কাভারাস্কেইয়া এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে। র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, তারা মূল ফেভারিটদের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
সম্ভাবনার তালিকায় আরও পাঁচ তারকা
র্যাঙ্কিংয়ের ‘আনলাইকলি’ বা তুলনামূলক কম সম্ভাবনাময়দের তালিকায় রয়েছেন মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, স্পেনের পাউ কুবারসি, স্পেনের ফাবিয়ান রুইজ, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম এবং পর্তুগালের রুবেন নেভেস।
এই ক্যাটাগরিতে থাকা মানেই যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের জয়ের সম্ভাবনা একেবারেই নেই, তা নয়। বরং র্যাঙ্কিং প্রস্তুতকারীদের মূল্যায়নে তারা আপাতত অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন ব্যালন ডি’অর?
ট্রান্সফারমার্কেট অ্যাডমিনদের এই পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে হ্যারি কেইনকে এগিয়ে রাখা হলেও ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত অর্জন, দলের সাফল্য এবং ভোটের ওপর। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ইয়ামাল ও এমবাপ্পের মতো তারকারাও কেইনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে জমে উঠছে, এই পাওয়ার র্যাঙ্কিং তারই একটি ইঙ্গিত। তবে এটি সম্ভাবনাভিত্তিক মূল্যায়ন—চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে তালিকার অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।