কার্লো আনচেলত্তির প্রীতি ম্যাচের দলে জায়গা হয়নি নেইমার জুনিয়রের। যে কারণে ফিফা উইন্ডোতে মাঠে কোনো ব্যস্ততা নেই ব্রাজিলিয়ান এ সুপারস্টারের। ছুটির আমেজেই প্রিয় জন্মভূমিতে সময় কাটাচ্ছেন সান্তোসের এ প্রাণভোমরা। চোটের হানায় দীর্ঘ সময় কাটিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ফিরেছেন নেইমার। ক্লাব ফুটবলে একটু একটু করে চেনা রূপে ফিরে স্বপ্ন বুনছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে নাম লেখানোর। তবে মাঠের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন নেইমার। সঙ্গে জানিয়েছেন ব্রাজিলে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে টিকে থাকার সংগ্রামের কাহিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে ভক্ত-সমর্থকদের নেইমার দেখিয়েছেন তার রোজকার রুটিন। কন্যা মাভির সঙ্গে খুনসুঁটি থেকে চোট প্রতিরোধের জন্য তার কঠোর সব অনুশীলন জায়গা পেয়েছে তাতে।
ব্রাজিল ফুটবলে প্রত্যাশা পর্বতসম। সেই আকাঙ্ক্ষার নিচেই চাপা পড়ে যান একজন খেলোয়াড়। মানসিক এই চাপকে সোজাসাপ্টা ‘নিষ্ঠুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হওয়ার জন্য বড় মূল্য দিতে হয়। ব্রাজিলে এই জীবনটা খুব কঠিন, মানুষ আপনাকে আক্ষরিক অর্থেই পিষ্ট করে ফেলে। তারা বুঝতে চায় না যে আপনিও একজন সাধারণ মানুষ। আমারও আপনাদের মতোই আবেগ আছে, আমিও কষ্ট পাই, ব্যথায় নীল হই। আমারও মেজাজ খারাপ হয়, আমিও কাঁদি। তাহলে কেন আমি সাধারণ মানুষের মতো কাজগুলো করতে পারব না?’
অবসরে থাকলে নেইমারের চোখ ছিল টেলিভিশনের পর্দায়। উপভোগ করেছেন ব্রাজিল বনাম ফ্রান্সের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে পিএসজির সাবেক সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্বার এক গোলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেইমার, ‘গোলপোস্টের সামনে এমবাপ্পে ভুল করার লোক নয়।’ ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের লক্ষ্য নিয়ে এই নাম্বার টেন বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে এসেছে। এ সময় সবাইকে নিজেদের সেরা ছন্দে থাকতে হবে। চলো এগিয়ে যাই!’
নিজের ফিটনেস নিয়েও কথা বলেছেন নেইমার। ১৫ দিন আগে করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে ডার্বিতে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির ঝুঁকি এড়াতে মাঠে ছিলেন না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ম্যাচে কোনো সমস্যা ছাড়াই ম্যাচে মাঠে লড়াই করতে পেরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন এ মেগাস্টার। ব্যক্তিগত ট্রেইনার রিকার্ডো রোসার তত্ত্বাবধানে নিজের ফিটনেস নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন নেইমার। যাতে বিশ্বকাপের আগে নতুন কোনো ইনজুরি তার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে।