হোম > খেলা > ফুটবল

যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তা সঙ্গী ইরানের

যুদ্ধের ময়দান থেকে মাঠের লড়াইয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলাধুলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখার চিরন্তন বাণীটি আরো একবার মুখ থুবড়ে পড়ল বাস্তবতার কাছে। ফিফা বিশ্বকাপের শতবর্ষের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেখা যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ও সংকটময় দৃশ্যপট—যেখানে টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে অংশগ্রহণকারী একটি দল। এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ম্যাচ শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে এক ভূ-রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, বর্তমানে তা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রূপ নিলেও উত্তেজনা কমেনি বিন্দুমাত্র। আর এই চরম অস্থিরতার মাঝেই সম্পূর্ণ প্রতিকূল এক পরিবেশে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
যুদ্ধের কারণে দেশের মাটিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি না থাকায় গত ১৮ মে থেকে তুরস্কের আন্তালিয়ায় ক্যাম্প করছে ইরান দল। তবে চারদিকের বারুদ আর অনিশ্চয়তার গন্ধ থেকে খেলোয়াড়রা নিজেদের কতটা মুক্ত রাখতে পারছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সাঈদ এজাতোল্লাহির কণ্ঠে ফুটে উঠল সেই মানসিক যন্ত্রণার ছবি, ‘একদিকে দেশের মানুষের জানমালের দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক খবরাখবর—সব মিলিয়ে মনোযোগ ধরে রাখা মোটেও সহজ নয়। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়গুলো আমাদের মনের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলছে।’
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফুটবলারদের কাগজ-কলমের প্রক্রিয়াতেও। আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি ইরানি ফুটবলাররা। অথচ গ্রুপ পর্বে ইরানের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রেই।
এই চরম অনিশ্চয়তার মুখে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয় ফিফা। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে তাদের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে অন্য আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মেক্সিকান দূতাবাস থেকে দ্রুত ভিসা পাওয়ায় আগামীকাল রোববারই দলটির মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ম্যাচ খেলতে যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তখন পরিস্থিতি কেমন হবে—তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি।
বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। কাকতালীয়ভাবে, এই অঞ্চলেই বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠী, যাদের সিংহভাগই বর্তমান ইরান সরকারের তীব্র বিরোধী। ফলে গ্যালারিতে শুধু প্রতিপক্ষের চাপ নয়, ঘরের মানুষের রাজনৈতিক ক্ষোভের মুখোমুখিও হতে হতে পারে ফুটবলারদের। যদিও এজাতোল্লাহি একে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার আশা, প্রবাসী ইরানিরা মাঠে এসে দলকে সমর্থন জোগাবেন এবং খেলোয়াড়রাও বিশ্বমঞ্চে ইরানিদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দেবেন।
সবকিছুর ঊর্ধ্বে ফুটবলারদের মূল চালিকাশক্তি এখন দেশের সাধারণ মানুষ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়া ২৪ বছর বয়সি মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ঘোরবানি মনে করিয়ে দিলেন তাদের আসল লক্ষ্যের কথা, ‘আমাদের দেশের মানুষ যুদ্ধের কারণে ভীষণ কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মাঠে নামব তাদের জন্য। আমাদের লক্ষ্য, বিশ্বমঞ্চে সেরাটা দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের মুখে অন্তত এক চিলতে হাসি ফোটানো।’
আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন মিসরের মুখোমুখি হবে তারা। মাঠের বাইরের যুদ্ধ, ভিসা জটিলতা আর মানসিক ট্রমা জয় করে পারস্যের এই প্রতিনিধিরা ফুটবল মাঠে কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন।

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোর বিপক্ষে জিতল বাংলাদেশ

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ ভুভুজেলা-লেজার

শিকড়ের টানে বিশ্বমঞ্চে ২৮৯ ফুটবলার

বিশ্বকাপ দেখাবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে যারা

বাংলাদেশ-সান মারিনো মুখোমুখি আজ

স্পেনকে আটকে চমক দেখাল ইরাক

নিউ ইয়র্কের নিঃশ্বাস বলছে, বিশ্বকাপ আসছে

আফগানিস্তানকেও আটকে দিল বাংলাদেশের তরুণরা

ফ্রান্সকে হারিয়ে শক্তির জানান দিলো আইভরি কোস্ট