ফুটবল লিওনেল মেসির ধ্যান-জ্ঞান। ফুটবলের প্রতি তার এই ভালোবাসা আর আকর্ষণ চলছে সেই ছোটবেলা থেকেই, যা আজও অটুট। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কারণে মেসি এখন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম মেগাস্টার। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের ছোট্ট তালিকায়ও উঠে গেছে তার নাম। জাতীয় দল থেকে ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য সব ধরনের শিরোপাই জিতেছেন। তার পাওয়ার বাকি নেই তেমন কিছুই। স্বাভাবিকভাবে আক্ষেপ থাকার কথা নয় মেসির জীবনে।
তারপরও ভক্ত-সমর্থকরা জেনে অবাক হবেন যে, রক্ত-মাংসের মানুষ মেসি একটি জায়গায় অনুশোচনায় ভোগেন। তার সেই অনুশোচনার জায়গাটা হলো ছোটবেলায় ভালো পড়াশোনা না করা। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষা শিখতে না পারাটা যারপরনাই পোড়ায় মেসিকে। মেক্সিকান পডকাস্ট ‘মিরো দে আত্রাস’-এ আর্জেন্টিনার সাবেক গোলকিপার নাহুয়েল গুজম্যানকে এ কথা বলেন মেসি।
পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার মতো সময় ছিল তার হাতে। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী, ‘অনেক বিষয়েই আমার আফসোস আছে। আমি সন্তানদের বলি ভালো শিক্ষা না নেওয়া, ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখা—এসব নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে। আমার লেখাপড়া করার সময় ছিল, কিন্তু না করায় আফসোস হয়।’
ভাষাগত সমস্যায় পড়লে মনের মধ্যে অস্বস্তি জাগে মেসির। রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি বলেন, ‘এমন সময় আসে যখন নামি-দামি মানুষের সঙ্গে থাকতে হয়, কথা বলতে বা আলাপ করতে হয়, তখন নিজেকে অজ্ঞ মনে হয়। তখন ভাবি, কী বোকা আমি, কত সময় নষ্ট করেছি!’
জীবনের এই শিক্ষা এখন সন্তানদের জীবন গড়তে কাজে লাগাচ্ছেন মেসি। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিজের তিন সন্তানকে সব সময় বলে থাকেন, জীবনের সব সুযোগ যেন তারা দুই হাত পেতে গ্রহণ করে, ‘আমার কোনো কিছুর অভাব ছিল না, বাবা সব সময়ই সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওদের সামনে আরো বেশি সুযোগ রয়েছে।’
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে খেললেও নতুন মিশনের আগে মেক্সিকোকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছার কথা খোলাখুলিই জানালেন মেসি। সাবেক সতীর্থ ও বর্তমানে টিগ্রেস ইউএএনএলের গোলরক্ষক নাহুয়েল গুজমানের সঙ্গে ‘মিরো দে আতরাস’ পডকাস্টে আলাপকালে মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপে প্রায়ই আমাদের দেখা হয়, আর বেশিরভাগ সময়ই সেটা হয় বাঁচা-মরার ম্যাচে। এবার তোমাদের (মেক্সিকো) ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ সুযোগ। তবে আশা করি এবার আমাদের মুখোমুখি হতে হবে না।’