হোম > খেলা > ফুটবল

ফুটবল প্রেমের কাছে পরাস্ত রাজমুকুট

নজরুল ইসলাম

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের কাদামাখা ফুটবল মাঠে তাকে সবাই চেনে ‘বিগ জি’ নামে। তার সাধারণ কাজ গোলপোস্ট আগলানো আর গলা ফাটিয়ে সতীর্থদের দিকনির্দেশনা দেওয়া। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ড্যাশিং গোলরক্ষকের জীবনটা বেশ চেনা ছকে বাঁধা—কাজের পর ক্লাবের ড্রেসিংরুম, পরিবার আর সবুজ ঘাসের ফুটবল মাঠ। কিন্তু নিয়তির চিত্রনাট্য যে তার জন্য একেবারেই অন্য এক অধ্যায় লিখে রেখেছিল, তা কে জানত! লন্ডনের নবম স্তরের ফুটবল লিগের অধিনায়ক জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসির সামনে সুযোগ ছিল উগান্ডার ঐতিহাসিক ‘তোরো’ রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করার।

রূপকথার মতো সুযোগটা এসেছিল অবশ্য এক বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে। ইউগ্যান্ডার তোরো সাম্রাজ্যের রাজা ওয়ো নিয়ম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি চতুর্থ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান মাত্র ৩৪ বছর বয়সে। রাজা ওয়োর অকালপ্রয়াণে সিংহাসনের শূন্যতা পূরণে বসে রাজার উত্তরাধিকার নির্বাচন কমিটি। ২১ সদস্যের সেই রাজকীয় কমিটির সিংহভাগ সদস্যের সমর্থনে নতুন রাজা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল লন্ডনের সেই ফুটবলার জর্জ কামুরাসিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি রাজার হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। সাবেক টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমাকে তোরোর নতুন রাজা হিসেবে বেছে নিয়েছে উত্তরাধিকার কমিটি।

হঠাৎ শুনলে কোনো নাটকীয় সিনেমার গল্প মনে হলেও কামুরাসির ধমনিতে বইছে রাজকীয় রক্ত। তিনি তোরো সাম্রাজ্যের সাবেক রাজা জর্জ রুকিডি তৃতীয়ের নাতি এবং প্রয়াত রাজা ওয়োর আপন চাচাতো ভাই। কিন্তু এই রাজকীয় পরিচয়ের অন্তরালে রয়েছে এক অন্ধকার ও তীব্র সংগ্রামের অতীত।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে মাতৃহারা হওয়া কামুরাসি কৈশোরে ভুল পথে চালিত হয়ে পড়েছিলেন। জড়িয়ে পড়েন অপরাধচক্রে, যার করুণ পরিণতি হিসেবে একসময় তার ঠাঁই হয়েছিল কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে। কিন্তু সেই অন্ধকার কক্ষেই ঘটেছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। কামুরাসি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘কারাগারের সেই ছোট প্রকোষ্ঠে বসেই আমি বুঝেছিলাম, আমার জীবনের প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্তের দায় আমার নিজের। আমি নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

জেল থেকে বেরিয়ে কামুরাসির জীবনের নতুন আলোর দিশা হয়ে আসে ফুটবল। গ্লাভস হাতে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি আবার জীবনকে শৃঙ্খলার সুতায় বাঁধেন। কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে গড়ে তোলেন, সুযোগ পান নাইকি একাডেমিতে, এমনকি বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার নজর কাড়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার স্মৃতির ঝাঁপিতে। পরে অবশ্য ইংল্যান্ডের নন-লিগ ফুটবলে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। লন্ডনের ‘এসই ডনস’ ক্লাবে তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, ড্রেসিংরুমে দেওয়া অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তৃতা এবং হার না মানা মানসিকতা সমর্থকদের কাছে অধিনায়ককে জনপ্রিয় করে তোলে।

আজ জীবনের সেই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দাঁড়িয়ে ছিলেন কামুরাসি এক অদ্ভুত দোরাস্তায়। একদিকে লন্ডনে ব্রিটিশ স্ত্রী আর ছোট সন্তানকে নিয়ে গড়ে তোলা এক শান্ত, সাধারণ জীবন; অন্যদিকে হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার বুকে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাম্রাজ্যের গুরুভার। জীবনের প্রথমাংশে যে কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তিনি হয়েছিলেন, ফুটবল তাকে শিখিয়েছে সেখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ফুটবল মাঠের সেই শৃঙ্খলা, সাহস আর নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়েই ‘বিগ জি’ ফুটবল গ্লাভসই বেছে নিয়েছেন। রাজি হননি মাথায় রাজমুকুট পরতে।

পতাকা বদলেছে শাসন নয়

মেধাভিত্তিক নিয়োগের পথে নতুন শঙ্কা

ইরানের চেয়ে বড় হুমকি ইসরাইল

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন বাংলাদেশের স্বপ্ন

ছোট পর্দায় ইউএস ওপেনের ফাইনালের সঙ্গে ক্রিকেটের রোমাঞ্চ

১৫ লাখ টাকা হারিয়ে দুধ দিয়ে গোসল, জুয়া ছাড়লেন যুবক

জীবনের সকল ক্ষেত্রে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে: মাওলানা আবদুল হালিম

ঝুঁকি এড়াতে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান

৮ কোটি টাকার সড়ক, দুই মাসেই বেহাল দশা

ফটিকছড়িতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাবা হারুন গ্রেপ্তার