অ্যানফিল্ড ছেড়ে চলতি গ্রীষ্মে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে পাড়ি জমানোর পর অনেকের ধারণা ছিল মোহাম্মদ সালাহর সেরা সময় হয়তো পার হয়ে গেছে। তবে উয়েফা কনফারেন্স লিগে নিজের পুরোনো রূপ দেখিয়ে মিসরীয় এই ফরোয়ার্ড প্রমাণ করলেন—জার্সি বদলালেও তার পায়ের জাদু ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আগের মতোই ধারালো।
বৃহস্পতিবার রাতে স্কটিশ ক্লাব হার্ট অব মিডলোথিয়ানের বিপক্ষে ট্রাবজোনস্পোরের ২-০ ব্যবধানের জয়ে নিজে একটি গোল করেন। সঙ্গে অন্য গোলটিতে দারুণ সহায়তা করেছেন সালাহ। এই জয়ে ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো উয়েফা টুর্নামেন্টের মূল পর্বে টানা দুই ম্যাচে জয়ের দেখা পেল তুর্কি ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুতেই হার্টসের মালাচি ফাগান-ওয়ালকাটের হেডার পোস্টে লেগে ফিরে এলে বেঁচে যায় ট্রাবজোনস্পোর। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় কোচ টমাস রাইসের দল।
ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় বক্সের ভেতর ফ্রেঙ্কুলিনো জু ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ট্রাবজোনস্পোর। ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত শটে গোল করে নতুন ক্লাবের হয়ে নিজের দশম গোলটি পূর্ণ করেন সালাহ।
প্রথমার্ধে পজিশন বদলে খেলা উইঙ্গার রজার্স মাটোর কড়া পাহারায় সালাহকে কিছুটা চুপচাপ মনে হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে এক মুহূর্তের সুযোগেই ব্যবধান গড়ে দেন তিনি। ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় ফ্রেঙ্কুলিনোর সঙ্গে অসাধারণ ‘ওয়ান-টু’ পাস খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে দেন সালাহ। তার নিখুঁত পাসে বল পেয়ে বাঁকানো শটে দলের দ্বিতীয় ও জয় নিশ্চিতের গোলটি করেন গিনি-বিসাউয়ের ফরোয়ার্ড ফ্রেঙ্কুলিনো।
পরাজয় সত্ত্বেও সালাহর মতো বিশ্বমানের তারকার বিরুদ্ধে লড়াই করায় নিজের শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসান হার্টসের কোচ উইটার ভ্রাঙ্কেন। তিনি বলেন, ‘এমন তারকাসমৃদ্ধ ক্লাবের বিপক্ষে সত্যি একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে খেলেছে আমার ছেলেরা। তাদের এই পারফরম্যান্সে আমি ভীষণ গর্বিত।’ সালাহকে সামলাতে মাটোকে ফুলব্যাক হিসেবে খেলানোর কৌশলও সফল ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল ট্রাবজোনস্পোর। সালাহর হাত ধরে ঘরোয়া লিগেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা গালতাসারাইয়ের ঠিক পেছনেই (৩ পয়েন্টের ব্যবধানে) অবস্থান করছে দলটি।