যেদিকে দৃষ্টি যায়, শুধু ধ্বংসস্তূপ। চারদিকে কেবল ইহুদিদের আগ্রাসনের ছাপ। দীর্ঘদিন ধরে চলা দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় অক্ষত নেই কোনো ভবনই। সিংহভাগ বাড়িঘরই মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার। গাজা যেন এক বিধ্বস্ত শহর। নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন লাখো ফিলিস্তিনি। ইসরাইল হামলা চালিয়ে গেছে কেবল গাজা উপত্যকায়। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুই বছরেরও বেশি সময় গাজায় বন্ধ ছিল ফুটবল। সেই ধ্বংসস্তূপে অবশেষে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফুটবল।
সম্প্রতি গাজার ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে ফাইভ-এ-সাইড পিচে আয়োজিত হয়েছে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। খবরটি দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। টুর্নামেন্টটি হয়েছে গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায়। ইট-পাথরের স্তূপে ঘেরা জরাজীর্ণ মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা। তবে ম্যাচটিতে কোনো দল জিতেনি। অমীমাংসিত থেকে যায় দুদলের লড়াই। একইভাবে বেইত হানুন ও আল-শুজাইয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচটিও হয়েছে ড্র। তবে ম্যাচের ফল নিয়ে মন খারাপ করেননি দর্শকরা। সোমবার তাল আল-হাওয়া এলাকার ‘প্যালেস্টাইন পিচ’ এর পাশের চেইন-লিংক বেড়া ঝাঁকিয়ে, চিৎকার-উল্লাসে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে গেছেন তারা।
জাবালিয়া ইয়ুথের ফুটবলার ইউসুফ জেন্দিয়ার বাড়িও ছিল গাজায়, যা ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে এখন প্রায় জনশূন্য। বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের হামলা থেকে বেঁচে ফুটবল মাঠে ফেরার অনুভূতি নিয়ে মিশ্র অনুভূতি জানিয়েছেন ইউসুফ, ‘দ্বিধান্বিত, খুশি, দুঃখিত, আনন্দিত, আবার খুশি। মানুষ সকালে পানি, খাবার ও রুটির খোঁজে বের হয়। জীবন কিছুটা কঠিন। কিন্তু দিনের কিছুটা সময় থাকে, যখন আপনি এসে ফুটবল খেলতে পারেন এবং ভেতরের কিছু আনন্দ প্রকাশ করতে পারেন।’
সামনে থেকে নিজের অনেক সাবেক সতীর্থকে প্রাণ হারাতে দেখেছেন। তাদের অনেকে হয়েছেন আহত। আঘাতের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি কেউ। সতীর্থ হারানোর কষ্ট এখনো ছুঁয়ে যায় ইউসুফের হৃদয়কে, ‘স্টেডিয়ামে এলে অনেক সতীর্থকে না পেয়ে কষ্ট হয়- কেউ নিহত, কেউ আহত, কেউ চিকিৎসার জন্য বাইরে গেছেন। তাই আনন্দটা পূর্ণ নয়।’