হোম > খেলা > ফুটবল

শিকড়ের টানে বিশ্বমঞ্চে ২৮৯ ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই যেন বিশ্বায়নের এক জীবন্ত দলিল। গায়ের জার্সি আর পাসপোর্টের পাতা এক হলেও, খেলোয়াড়দের জন্মপরিচয় খুঁজতে গেলে ওলটপালট হয়ে যায় চেনা ভূগোল। চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এই রূপটি আরো স্পষ্ট। এবারের বর্ধিত ৪৮ দলের বিশ্বমঞ্চে অংশ নেওয়া এক হাজার ২৪৮ ফুটবলারের মধ্যে ২৮৯ জনই খেলছেন তাদের জন্মভূমির বাইরে অন্য কোনো দেশের হয়ে! শৈশব, কৈশোর কিংবা বেড়ে ওঠার শহরের মায়া ত্যাগ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা বেছে নিয়েছেন নিজের বা পূর্বপুরুষের শিকড়কে।
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা দেশ ‘কুরাসাও’। দলটির স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে চোখ কপালে ওঠার দশা হবে যে কারোই। স্কোয়াডের ২৬ ফুটবলারের মধ্যে ২৫ জনেরই জন্ম নেদারল্যান্ডসে! একমাত্র ব্যতিক্রম তাহিথ চং; কুরাসাওয়ে জন্ম নেওয়া এই তারকার ফুটবলীয় দীক্ষা অবশ্য হয়েছে ইউরোপেই। ২০১০ সাল থেকে কুরাসাও স্বায়ত্তশাসিত দেশ হলেও ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে এটি নেদারল্যান্ডস রাজতন্ত্রের অংশ। আর সেই সুবাদেই ডাচদের ফুটবল একাডেমিগুলোর সরাসরি সুফল পাচ্ছে দলটি।
ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার এই প্রবণতার মূল চালিকাশক্তি মূলত আফ্রিকার দেশগুলো। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস বা স্পেনের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের আধুনিক একাডেমিতে বড় হয়েও বহু তারকা বেছে নিয়েছেন বাবা-মার জন্মভূমিকে।

পরিসংখ্যান বলছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্কোয়াডের ২০ জন খেলোয়াড়ের জন্ম দেশের বাইরে। গত বিশ্বকাপের চমক মরক্কোর দলে এমন ফুটবলার আছেন ১৯ জন। এছাড়া বসনিয়ার ১৭ জন এবং হাইতি ও আলজেরিয়ার ১৬ জন করে খেলোয়াড়ের জন্ম নিজ দেশের সীমানার বাইরে।
এই বৈশ্বিক হাওয়া থেকে বাদ যায়নি লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনাও। সেখানে একদিকে যেমন যুক্ত হয়েছে ইউরোপে জন্ম নেওয়া নতুন রক্ত, তেমনি আর্জেন্টিনার মাটির সন্তানরা মাঠ মাতাচ্ছেন অন্য দেশের হয়ে।
ইউরোপীয় লিগে খেলার সময় দিয়েগো সিমিওনে ও পাবলো পাজের সন্তানদের জন্ম হয়েছিল ইউরোপে। সেই সূত্রে জুলিয়ানো সিমিওনে (জন্ম ইতালি) ও নিকো পাস (জন্ম স্পেন) চাইলে ইউরোপের দেশগুলোর হয়ে খেলতে পারতেন। কিন্তু তারা বেছে নিয়েছেন বাবার দেশ আর্জেন্টিনাকে।
ঠিক উল্টো চিত্রও আছে। খোদ আর্জেন্টিনায় জন্ম নিয়েও অন্য দেশের জার্সিতে এবারের বিশ্বকাপ খেলছেন একঝাঁক তারকা। মেক্সিকোর সান্তিয়াগো হিমেনেজ, প্যারাগুয়ের হুয়ান হোসে কাসেরেস, আলেহান্দ্রো গামারো ও আদ্রিয়ান কুবাস, ইকুয়েডরের হার্নান গালিন্দেজ এবং উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা—এদের সবার জন্মই আর্জেন্টিনার মাটিতে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকত্ব বা জন্মস্থান যেখানেই হোক না কেন, ফুটবলারদের মনে আবেগ ও শিকড়ের টান এখনো অনেক বেশি শক্তিশালী। একই সঙ্গে ইউরোপের উন্নত ফুটবলের স্বাদ পেয়ে এই খেলোয়াড়রা যখন এশিয়া, আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় খেলছেন, তখন বিশ্ব ফুটবলের সামগ্রিক মানও অনেক উন্নত হচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেশের জার্সি গায়ে জড়ালেও, এই ২৮৯ জন ফুটবলার আসলে আধুনিক ফুটবল মাঠের বৈশ্বিক সংস্কৃতিরই অনন্য প্রতিনিধি।

যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তা সঙ্গী ইরানের

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ ভুভুজেলা-লেজার

বিশ্বকাপ দেখাবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে যারা

বাংলাদেশ-সান মারিনো মুখোমুখি আজ

স্পেনকে আটকে চমক দেখাল ইরাক

নিউ ইয়র্কের নিঃশ্বাস বলছে, বিশ্বকাপ আসছে

আফগানিস্তানকেও আটকে দিল বাংলাদেশের তরুণরা

ফ্রান্সকে হারিয়ে শক্তির জানান দিলো আইভরি কোস্ট

ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল ঘিরে আত্মবিশ্বাসী মেয়েরা