চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকেই প্রতিপক্ষ জার্মানির শক্তিশালী আরবি লাইপজিগ। এমন মঞ্চে অনেক দলই চাপের কাছে নুয়ে পড়ে। কোমো সেখানে লিখল রূপকথা। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচেই লাইপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সেস্ক ফাব্রেগাসের দল। ঐতিহাসিক এই জয় কোমোর জন্য যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকল, তেমনি লাইপজিগের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রত্যাবর্তনও হলো দুঃস্বপ্নের।
স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগালিয়ায় শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল খেলেছে কোমো। ১৫ মিনিটে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের গোলের খাতা খোলে তারা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মার্তিন বাতুরিনা। গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকরা। ৩৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তাসোস দুভিকাস। বাতুরিনার সহায়তায় গোল করে বিরতির আগেই কোমোকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন গ্রিসের এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই লাইপজিগ বুঝে যায়, অভিষেকের দলটিকে সহজে সামলানো যাবে না।
বিরতির পর কোমোর দাপট আরো বাড়ে। ৫৪ মিনিটে নিকো পাসের সহায়তায় অসানে দিয়াও গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লাইপজিগ। ৫৮ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর সহায়তায় আন্দ্রিয়া মাক্সিমোভিচ গোল করে ব্যবধান কমান। এ গোলের পর কিছুটা আশার আলো দেখেছিল জার্মান দলটি। কিন্তু কোমোর সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সামনে সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। শেষ বাঁশির ঠিক আগে নিকো পাসের পাস থেকে গোল করে কোমোর জয় নিশ্চিত করেন ম্যাক্সিমো পেরোনে।
চার গোলের এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের গল্প নয়; কোমোর দ্রুত উত্থানেরও প্রতিচ্ছবি। মাত্র সাত বছর আগে ইতালির চতুর্থ বিভাগে খেলা দলটি এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে। ম্যাচ শেষে কোচ ফাব্রেগাসও রাতটিকে ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, ‘এই ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সন্ধ্যা এটি, যা নিয়ে তারা ১০ বছর পরও কথা বলবে। এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। আমি আশা করি, সমর্থকরাও আমাদের মতোই এটি উপভোগ করেছেন।’