ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে কোচ থমাস ডুলির দল। তবে আগের ম্যাচের তুলনায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভালো লড়াই করেছেন হামজা-শমিতরা। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সমান তালে যেভাবে লড়াই করেছেন তারা, তাতে সন্তুষ্ট কোচ ডুলি। দলে একজন নিখুঁত স্ট্রাইকার না থাকার কারণে গোল পায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচশেষে এমনটাই জানালেন কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় শিক্ষা ছিল। আর আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে, আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও রাখি। কিন্তু আমাদের বড় সমস্যা হলো গোল করা। দলে এমন কোনো নিখুঁত স্ট্রাইকার নেই যে বল জালে জড়াতে পারে। সামগ্রিকভাবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। তবে আপনার প্রথম প্রশ্নটি আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতো শুধু লং বল খেলিনি বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে লং বল প্রতিপক্ষের পায়ে চলে যায় এবং পরে সেই বলের পেছনে ছুটতে হয়। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে গড়ে ১০ হাজার মিটারের মতো দৌড়েছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। এর মধ্যে ৮ হাজার মিটারই দৌড়াতে হয়েছিল বল তাড়া করতে গিয়ে। এটা কোনো ভালো খেলা নয় বলে মন্তব্য করলেন কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমি চাই দল বলের দখল রেখে খেলুক। দাবা খেলার মতো ফুটবলেও পরিকল্পনা করে খেলতে হয়— পরবর্তী ২-৩ সেকেন্ডে কী হবে, সতীর্থরা কোথায় আছে তা স্ক্যান করতে হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজকের খেলায় আমরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলাম এবং ৫০-৫০ বলগুলোতে জয়ী হয়েছি। আমাদের হয়তো ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো মানের কোনো অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার নেই, যা তৈরি করতে সময় লাগবে। তবে দলের এই উন্নতিতে আমি খুশি। মালয়েশিয়ার কাছে হার থেকে শিখে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল অনেক ভালো খেলেছে। আশা করি, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকেও আমরা ইতিবাচক কিছু শিখতে পারব, যা আমাদের সাফে কাজে দেবে এবং ২০ বছর পর আবারও সাফ শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখবে।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য আসিয়ান কাপে খেলছে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে হারলেও দলের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে বলে মনে করেন কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। আমাদের বুঝতে হবে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে আমরা খুশি, কারণ এখানে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দল রয়েছে, যারা সবাই র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। র্যাঙ্কিং এমনি এমনি নির্ধারিত হয় না; তাই পার্থক্যের একটি বড় কারণ রয়েছে। আমরা এখানে সবাইকে হারিয়ে দিতে আসিনি, বরং নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে এসেছি।’