আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে হবে ‘ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬’ টুর্নামেন্ট। ১৯৯৬ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলো নিয়ে হয়ে আসছিল আসিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। এবারই প্রথম ফিফার তত্ত্বাবধানে হচ্ছে টুর্নামেন্টটি। টুর্নামেন্টের নতুন নামকরণের পাশাপাশি আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশের বাইরে চীন, ভারত ও হংকংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ভারত ও চীন নিজেদের ব্যস্ততার জন্য ফিফার পৃষ্ঠপোষক টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপে খেলতে পারছে না। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ এবং চীনের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে খেলছে পাকিস্তান।
প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে প্রিমিয়ার ডিভিশনে আটটি এবং চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে বাকি ছয়টি দল অংশ নেবে। প্রিমিয়ার ডিভিশনে খেলবে বাংলাদেশ। এই ডিভিশনের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। আর ‘বি’ গ্রুপে লড়বে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনস ও পাকিস্তান। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল খেলবে ফাইনালে। আর রানার্সআপ দল অংশ নেবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় হবে প্রিমিয়ার ডিভিশনের খেলা।
অন্যদিকে, চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে খেলাগুলো হবে টুর্নামেন্টে আমন্ত্রিত দেশ হংকংয়ে। এই ডিভিশনের ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক হংকং, লাওস ও ব্রুনাই খেলবে। আর ‘বি’ গ্রুপে লড়বে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও তিমুর-লেস্তে। চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ থাকছে না। তবে দুই ডিভিশনের জন্যই থাকছে বড় অংকের অর্থ পুরস্কার। প্রিমিয়ার ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে এক মিলিয়ন ডলার অর্থ পুরস্কার পাবে। আর চ্যালেঞ্জ ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে তিন লাখ ডলার অর্থ পুরস্কার। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ফিবাবদ দলগুলো পাবে এক লাখ ২৫ হাজার ডলার করে।
ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার জন্য মুখিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের অনুপস্থিতিতেই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ মিলেছে বাংলাদেশের। এই সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগাতে চায় তারা। কেননা বাংলাদেশের সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর রয়েছে। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে হবে সাফের আসর। ২৩ বছর পর সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য বাংলাদেশের। এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য জাতীয় দলকে ভালোভাবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনায় ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগামী সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে ঘরের মাঠে ও বিদেশে গিয়ে ফুটবল সিরিজ খেলার চিন্তা করেছিলেন বাফুফে কর্তারা। তবে আসিয়ান কাপে সুযোগ পাওয়ায় বিকল্প ভাবতে হয়নি তাদের। মূলত আসন্ন সাফের জন্যই আসিয়ান কাপের তাৎপর্য বেড়ে গেছে বহুগুণে। সাফের প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকরী ও উপযুক্ত মঞ্চ আসিয়ান কাপ। ইন্দোনেশিয়ার মাঠে এই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে দলীয় বোঝাপড়া, ট্যাকটিক্যাল ভ্যারিয়েশন এবং মূল একাদশ গোছানো সুযোগ পাবেন কোচ থমাস ডুলি। তাছাড়া কোন পজিশনে কাকে দরকার, প্রথমার্ধের গতির সঙ্গে পরের অর্ধের খেলার সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ— সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে আসিয়ান কাপ।
বাংলাদেশের জন্য আসিয়ান কাপ সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সব দিক থেকেই দলগুলো এগিয়ে। আসিয়ান অঞ্চলের এই দলগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির ফুটবল খেলে। তাদের গতি ও কৌশলই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এসব দলের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট সমান তালে খেলা সবসময়ই কঠিন পরীক্ষার। তবে সম্প্রতি হামজা-শমিতরা যে সম্ভাবনাময় ফুটবলের বার্তা ছড়িয়ে দিলেন, তাতে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ভালো কিছু করে দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলোর গতিময় ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেরাটা খেলতে পারলে টুর্নামেন্টে চমকের নাম হতে পারে বাংলাদেশ। সব দিকে বিবেচনায় নিলে, আসিয়ান কাপ বাংলাদেশকে শুধু একটি টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতাই দেবে না, বরং দলের বাস্তব অবস্থানটাও যাছাই হবে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিপক্ষে ইতিবাচক খেলতে পারে যেমন ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যাবে, তেমনি দেশের ফুটবল অনুরাগীদের মনেও আশার সঞ্চার হবে। শুধু তাই নয়, আসিয়ান কাপে যদি বাংলাদেশ ভালো খেলে তাহলে সাফ জয়ের সম্ভাবনাও জোড়ালো হবে।