আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া। প্রচণ্ড গরম ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে। গত বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচ বিলম্বিত কিংবা স্থগিত করতে হয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপেও গরমের প্রভাব কমাতে প্রতিটি ম্যাচে ‘কুলিং ব্রেক’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজকরা। প্রতি অর্ধের ২২ মিনিটের মাথায় খেলা থামিয়ে ফুটবলারদের বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে এসব নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তৃতীয় ভিন্ন মহাদেশে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া এই গোলকিপারের বিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতি নিলে গরম আবহাওয়া কোনো অজুহাত হতে পারে না।
ফোরফোরটু ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা জানি সেখানে অনেক গরম থাকবে। এজন্যই আমরা আগেভাগে সেখানে যাচ্ছি, প্রস্তুতি ক্যাম্প করব এবং ওই আবহাওয়ায় দুটি ম্যাচ খেলব।’
বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডায় দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। ৬ জুন ট্যাম্পা বেতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে থমাস টুখেলের দল। এরপর ১০ জুন অরল্যান্ডোতে খেলবে কোস্টারিকার বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচের আগে আরও এক সপ্তাহ সময় পাবে ইংল্যান্ড।
১৭ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে থ্রি লায়ন্সরা।
পিকফোর্ডের মতে, সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। ‘আমরা পরিকল্পনা খুব ভালোভাবে করি। তাই ১৭ জুন মাঠে নামার আগে সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকব বলে মনে করি,’ বলেন তিনি।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যদি শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে দলটিকে টানা ছয় সপ্তাহের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হোটেলজীবন কাটানোও ফুটবলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই জায়গাতেও দলের সাপোর্ট স্টাফদের প্রশংসা করেছেন পিকফোর্ড। ‘আমাদের দলের পেছনের স্টাফরা দারুণ কাজ করে, যেন আমরা দেশের বাইরে থেকেও নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করতে পারি,’ বলেন তিনি।
ইংলিশ গোলরক্ষকের মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ খুব বেশি আসে না। তাই প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান তিনি।
পিকফোর্ড বলেন, ‘ইংল্যান্ডের জার্সিতে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বেশি পাওয়া যায় না। তাই এটা নিয়ে গর্ব করতে হবে, উপভোগ করতে হবে এবং মাঠের ভেতর-বাইরে যত বেশি সম্ভব স্মৃতি তৈরি করতে হবে।’