লিসবনের দ্য লুজে তিন সপ্তাহ আগের তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার হাসল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্লে-অফের প্রথম লেগে স্বাগতিক বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়েতে জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লস ব্লাঙ্কোসদের জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গত মাসেই একই মাঠে ৪-২ গোলে হেরে প্লে-অফে নেমে যেতে হয়েছিল রিয়ালকে। অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইও। অ্যাওয়ে ম্যাচে এএস মোনাকোর বিপক্ষে শুরুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানে জিতে যায় দলটি।
বেনফিকার বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে রিয়াল। প্রথমার্ধেই কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও গোল পায়নি কার্লো আনচেলত্তির দল। ১৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়, আর ৪০তম মিনিটে গোলমুখে গিয়েও বল স্পর্শ করতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে বেনফিকাও পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরিয়েছিল। ২৪তম মিনিটে তাদের শট দিক বদলে জালে জড়ানোর আগে দুর্দান্ত সেভ করেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই।
৫০তম মিনিটে এমবাপ্পের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ৩১তম গোল, যা তাকে ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। সামনে আছেন কেবল নেইমার। গোলের পর দর্শকদের দিকে উদ্যাপন করতে গিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয় মাঠে। রেফারি ভিনিসিয়ুসকে হলুদ কার্ড দেখান, এরপর কিছুক্ষণ খেলা বন্ধও থাকে। ধারাভাষ্যকাররা সম্ভাব্য বর্ণবাদী আচরণের ইঙ্গিত দেনÑ যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত হয়নি।
ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। বেনফিকার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস বক্সে একজন খেলোয়াড়কে ফেলে দিলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহো। রেফারি তাকে প্রথমে হলুদ এবং পরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। শেষ মিনিটগুলোতে বেনফিকা মরিয়া হয়ে গোল শোধের চেষ্টা করলেও রিয়াল তাদের রক্ষণ অটুট রাখে। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়েই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরছে রিয়াল।
পিএসজির প্রত্যাবর্তনটা হয়েছে নাটকীয়। শুরুতে দুই গোল হজম করলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচের বাকি সময় দাপট দেখিয়েই খেলে পিএসজি। প্রায় ৭৩ শতাংশ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বল। গোলের জন্য মোট ২৯টি শট করে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এর মধ্যে ১২টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। ১৮ মিনিটে জোড়া গোল করেছিলেন মোনাকোর ফোলারিন বালোগুন; কিন্তু এরপর ঘুরে দাঁড়ায় পিএসজি। দিজিয়ে দুয়ে ও আশরাফ হাকিমি সমতা ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে মোনাকো ১০ জনে পরিণত হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেয় পিএসজি এবং দুয়ের দ্বিতীয় গোলে নিশ্চিত হয় জয়। আরেক ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ২-০ গোলে হারিয়েছে ইতালির আতালান্তাকে। তবে সাবেক চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস বড় ধাক্কা খেয়েছে। তুরস্কের গ্যালাতাসারাইয়ের কাছে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে তারা, লাল কার্ড পাওয়ার পর আরো বিপাকে পড়ে ইতালিয়ান দলটি।
প্রথম লেগ শেষে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে রিয়াল, পিএসজি ও ডর্টমুন্ড; আর দ্বিতীয় লেগেই নির্ধারিত হবে শেষ ষোলোর ভাগ্য।