ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনা করা যে কোনো রেফারির জন্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে নামা হলো না তার। বিমানবন্দর থেকেই তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সি আর্তান আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালে তিনি আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতি পান। এবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। সোমালিয়ার প্রথম কোনো রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি বাজানোর কৃতিত্ব অর্জন করতে পারতেন তিনি।
তবে গত সোমবার মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। কূটনৈতিক মর্যাদা এবং বৈধ ‘সিঙ্গেল এন্ট্রি’ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তদন্তে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা ওমর আর্তানকে মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায় দেশে প্রবেশের অযোগ্য করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সন্দেহভাজন একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোনো ঝুঁকি থাকলে কাউকেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ কারণে আর্তানের বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে।
অন্যদিকে ওমর আর্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে সোমালিয়ার জঙ্গি সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারিয়ে দেশে ফিরলেও নিজ দেশে বীরের মর্যাদাই পেয়েছেন আর্তান। সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে পৌঁছানোর পর আদেন আদ্দে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সরকারি কর্মকর্তা, সোমালি ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধি, সহকর্মী রেফারি এবং সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
নিজ দেশের মানুষের এমন সমর্থনে আবেগাপ্লুত আর্তান গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি সকল কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ফিফার প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আর্তানের ভাষ্য, পুরো ঘটনার সময় ফিফা তার পাশে ছিল এবং মোগাদিসুতে পৌঁছানো পর্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে।
হতাশার মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সোমালিয়ার এই রেফারি। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, এবারের সুযোগ হাতছাড়া হলেও একদিন তিনি আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরবেন। তার বিশ্বাস, পরবর্তী বিশ্বকাপে তিনি ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাবেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণ করেই ছাড়বেন।