মিসরে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দেশটির আয়ের বৃহত্তম উৎস সুয়েজ খাল থেকে রাজস্ব কমে আসছে। আগের বছরের চেয়ে চলতি বছর এই রাজস্ব কমেছে ৬০ ভাগ। এর ফলে দেশটির ক্ষতি হয়েছে সাত বিলিয়ন ডলার।
গত ২৬ ডিসেম্বর মিসরের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এই খাল ব্যবহার করেই বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ ভাগ সম্পন্ন হয়। কিন্তু গাজায় ইসরাইলের চলমান আগ্রাসন ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের অবরোধের প্রভাব পড়েছে সুয়েজ খাল দিয়ে বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের ওপর।
গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিরা ইয়েমেন-সংলগ্ন লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালী দিয়ে ইসরাইলগামী যে কোনো জাহাজকে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে এরকম প্রায় ১০০ জাহাজে হামলা করেছে হুথিরা। তারা বলছে, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ হলেই তারা লোহিত সাগরে হামলা বন্ধ করবে।
হুথি হামলার জেরে অনেক বাণিজ্য জাহাজ বাব আল-মানদেব ও সুয়েজ খালের পথের বদলে অনেকখানি ঘুরে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে চলাচল করছে।
অবস্থার পরিবর্তনে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইসরাইল ইয়েমেনে ব্যাপক হামলা চালালেও লোহিত সাগরে হুথিদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা মিসরের জন্যও লোহিত সাগরের এই পরিস্থিতি- মড়ার ওপর খাড়ার ঘা।
দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, অর্থের মানও পড়ে যাচ্ছে। জীবনধারণের ন্যূনতম উপকরণ সংগ্রহ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন লাখ লাখ মিসরীয় নাগরিক। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি যেন এর প্রতিবেশী সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদের শাসনামলের প্রতিচ্ছবি।
আসাদের পতনের পর মিসরীয় একনায়ক আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ক্ষমতায় থাকা নিয়ে বাড়তে থাকা উৎকণ্ঠাই ধরা পড়েছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কারও রক্তে হাত রঞ্জিত করবেন না তিনি। আর কারও অর্থও চুরি করেননি।’
এক দশক আগে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন আল-সিসি। বর্তমানে তাকে বিবেচনা করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে নিপীড়নকারী শাসক হিসেবে।
তার শাসনামলেই জেলখানায় ধুঁকছে ৬৫ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি। গুমের ঘটনা সেখানে নিয়মিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অত্যাচার এতটাই সাধারণ বিষয় যে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সুয়েজ খাল থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ার জেরে মিসরের অর্থনীতির হাল ধরতে এখন দেশটির পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের ওপর চাপ পড়ছে।