টানা দুই সেশন বাড়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। একইসঙ্গে নিম্নমুখী রয়েছে রুপাসহ অন্যান্য ধাতুর দামও। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের তথ্যমতে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এপ্রিল মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫৭ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যা বৈশ্বিক আর্থিক ও মুদ্রানীতির দিক-নির্দেশনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় স্বর্ণের দাম মূলত আলোচনা-সংক্রান্ত খবরের ওপরই নির্ভর করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় চার সপ্তাহের লড়াই শেষ করতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন, তিনি আগে জানিয়েছিলেন যে, তাদের দেশ মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে সংঘাত নিরসনে কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই।
বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষ টানা ৬ দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।