ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতেও। ফলে বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের তেলের দিকে ঝুঁকছে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান।
তাজিকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে তার পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। কিরগিজস্তানও পেট্রোলের ৯০ শতাংশের বেশি রাশিয়া থেকে নেয়। আগস্টে তাজিকিস্তান জানায়, তারা ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করছে। দেশটি ইরান থেকে প্রায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন তেল ও জ্বালানি পণ্য পাওয়ার আশা করছে।
একই সময়ে কিরগিজস্তানে যৌথভাবে একটি তেল শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে ইরান। ওই শোধনাগারের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল ইরান সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য এশিয়ায় ইরানের এই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইরান থেকে তাজিকিস্তান বা কিরগিজস্তানে তেল নিতে হলে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান হয়ে রেলপথ ব্যবহার করতে হবে। বিপরীতে রাশিয়ার সঙ্গে দুই দেশের সরাসরি সীমান্ত ও দীর্ঘদিনের রেল, পাইপলাইন ও সরবরাহ অবকাঠামো রয়েছে।
ফলে রাশিয়ার শোধনাগারগুলো পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে এবং ইউক্রেনের হামলা কমে এলে রুশ জ্বালানি আবারও তুলনামূলক কম দামে মধ্য এশিয়ার বাজারে ফিরতে পারে। বিশেষ করে কিরগিজস্তানের মতো ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো রাশিয়া থেকে শুল্কমুক্ত জ্বালানি পাওয়ার সুবিধা ভোগ করে।
ইরানের জন্য মধ্য এশিয়া নতুন বাজার তৈরি করলেও এর আকার তুলনামূলক ছোট। তাজিকিস্তানের দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার ব্যারেল, যা ইরানের সমুদ্রপথে আগের প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল দৈনিক রপ্তানির তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে এই বাজার চীনের মতো বড় ক্রেতাদের বিকল্প হতে পারবে না।
এছাড়া ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরাসরি সরকারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না এনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও পরিবহন কোম্পানিগুলোর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি সংকট মধ্য এশিয়ায় ইরানের জন্য স্বল্পমেয়াদি একটি নতুন বাজার তৈরি করেছে। তবে রাশিয়ার সরবরাহ স্বাভাবিক হলে অবকাঠামো, পরিবহন ব্যয় ও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে ইরানের পক্ষে এই বাজারে বড় ধরনের স্থায়ী অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে।