হোম > বিশ্ব

যেভাবে জেনারেলদের প্রতি আস্থা হারালেন চীনা প্রেসিডেন্ট

আমার দেশ অনলাইন

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক অভিজাতদের ওপর যে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক আইনসভা বৈঠকে। এক বছর আগে যে কক্ষে প্রায় ৪০ জেনারেল উপস্থিত ছিলেন, এবার সেখানে ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন।

শি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন এখনো শেষ হয়নি। তিনি বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীতে এমন কাউকে কখনোই রাখা যাবে না, যার দলের প্রতি দ্বিধাবিভক্ত মনোভাব রয়েছে।’

ক্ষমতায় তার ১৩ বছরের শাসনামলের অন্যতম ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট নিয়ে এই প্রথমবারের মতো উল্লেখ করেন শি জিনপিং। তিনি সেই সামরিক নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছেন, যাকে তিনি এক দশক ধরে গড়ে তুলেছেন।

এই সংকট শির অন্যতম সেরা অর্জন নতুন বিমানবাহী রণতরী, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক অস্ত্রাগারসহ চীনা সামরিক বাহিনীকে একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপান্তরিত করাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আর এটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা ও ইরানে মার্কিন সামরিক শক্তি এবং তার সীমাবদ্ধতাকে সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হন। এই বছরের শুরুতে চীনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ঝাং ইউশিয়ার পতনের মাধ্যমে এই শুদ্ধি অভিযান চূড়ান্ত রূপ নেয়, যাকে শি জিনপিংয়ের একজন বিশ্বস্ত সহযোগী বলে মনে করা হতো।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড্যানিয়েল ম্যাটিংলি বলেন, ‘এটা শি জিনপিংয়ের সামরিক বাহিনী। তিনি নিজের গড়া জিনিসটা কেন ভেঙে ফেলেন?’

তিনি বলেন, ‘এমনকি পাঁচ বছর আগেও শির কাছ থেকে মানুষ এমনটা আশা করেনি। গভীর কিছু একটা বদলে গেছে।’

শি জিনপিং যে দুর্নীতির সন্ধান করছেন তা বাস্তব। তবে তার আগের কিছু অভ্যন্তরীণ ভাষণ, যা আগে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি, তা আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করে। আর তাহলো তিনি এমন একজন নেতা যিনি অবাধ্যতার সামান্য লক্ষণকেও তার রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখেন। বিশ্লেষকরা বলেন, তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য তিনি যে কমান্ডারদের বেছে নিয়েছিলেন, তাদের আর বিশ্বাস করা যায় না; ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির কারণে তাদের আনুগত্য ও কার্যকারিতা কমে গিয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলেন, এই ব্যাপক পরিবর্তন শি জিনপিংয়ের দুটি অপরিহার্য নীতির মধ্যকার টানাপোড়েনকেও উন্মোচিত করেছে — যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি এবং আনুগত্য নিশ্চিত করা।

এই ব্যাপক সংস্কার সামরিক বাহিনীর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর হয়। পদোন্নতির জন্য সঠিক কমান্ডারদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তিনি নিজের ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখেন।

২০১৬ সালে একটি অভ্যন্তরীণ ভাষণে তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠনের চাবিকাঠি হলো সঠিক ব্যক্তিকে বাছাই করা।’

তার লক্ষ্য ছিল চীনকে বিদেশে শক্তি প্রদর্শনের জন্য স্থল, আকাশ ও নৌবাহিনীকে একত্রিত করতে সক্ষম করে তোলা এবং একই সাথে এই আধুনিক বাহিনী যেন অবিচলভাবে অনুগত থাকে তা নিশ্চিত করা।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আরএ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর নিখোঁজের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে

ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার সহায়তা পাঠাচ্ছে ইউরোপের চার দেশ

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের

স্পেনে ৭৬ বছরের মধ্যে জুনের সবচেয়ে উষ্ণ দিন

আফটারশকের আতঙ্কে বাইরে রাত কাটাচ্ছেন হাজারো ভেনেজুয়েলাবাসী

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার

দরজা খুলতে দেরি, বেডরুমে ঢুকে ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা

ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজে মার্কিন সহায়তার ঘোষণা ট্রাম্পের

জীবন রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ৫ জন নিহত