হোম > বিশ্ব

নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে চাপে জাতিসংঘ

দ্য গার্ডিয়ান

আন্তর্জাতিক নানা সংকটের মধ্যেই নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন ও অন্যান্য যুদ্ধ, গাজা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর চাপের মধ্যে নতুন মহাসচিবকে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সময়ে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক সংকটও গভীর হচ্ছে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। এ পদের জন্য এখন পর্যন্ত কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই।

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব দেশের যেকোনো একটি দেশ প্রার্থীকে ভেটো দিতে পারে। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট এবং কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যানকে সম্ভাব্য প্রধান প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটগুলোতে তাদের কারও পক্ষেই সুস্পষ্ট সমর্থন তৈরি হয়নি।

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্বকে এমন সময়ে দায়িত্ব নিতে হবে, যখন সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে রয়েছে। গুতেরেস এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বকেয়া অর্থের কারণে জাতিসংঘ আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া অর্থও বড় একটি অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ বছর ৩১টি জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা সংস্থাও এর মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তও জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ নিয়েও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে জাতিসংঘের পরিবর্তে কোনো বিকল্প আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে সংকটের মধ্যেও জাতিসংঘের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম জাতিসংঘ। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমও চালু রয়েছে। বর্তমানে ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

নতুন মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় হলো প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে তুলনামূলকভাবে সীমিত তথ্য প্রকাশ্যে আসা। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রার্থীদের বিস্তারিত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

কোনো প্রার্থী নিয়ে স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না হলে বর্তমান মহাসচিব গুতেরেসকে সাময়িকভাবে দায়িত্বে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার নতুন মহাসচিব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের সামনে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তনই নয়, বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচন জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে কানাডা

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৩

রাজ্য নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও পদ ছাড়ছেন না জার্মানির চ্যান্সেলর

ন্যাটোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রাশিয়া, কঠিন পরীক্ষার মুখে ইউরোপ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

জার্মানিতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু

পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ৩ বোন গ্রেপ্তার

নারী খুনিদের নিয়ে কেন এত আগ্রহ

ব্রিটেনের রাজনীতিতে আলোচনায় রিফর্ম পার্টি

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের