হোম > বিশ্ব

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ধ্বংস করে ইরানের জয়

জমির উদ্দিন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরাইলের সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে ইরান তার ডিফেন্স ভাঙার কৌশল ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধের নতুন প্যাটার্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে রূপ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম যেমন রয়টার্স জানাচ্ছে, মার্কিন নেতৃত্বে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপক ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে। যার ফলে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, তেল ও গ্যাস অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটও ব্যাহত হয়েছে।

বিশেষ করে ইউনাইটেড আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের হামলা আর্থিক ও বাণিজ্যিক হাবগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত লেগে মানুষ আহত এবং শিপিং রুটগুলোতে ক্ষতি হয়। যা আন্তর্জাতিক বন্দর ও বাণিজ্যিক পরিবহণকে বিভ্রান্ত করেছে। যার খবর এপি নিউজও প্রকাশ করেছে। এই ধরনের আক্রমণের মাধ্যমে ইরান স্ট্রেট অব হরমুজ বিশ্বের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ কার্যত ব্যাহত করে দিয়েছে। গ্লোবাল তেল বাজারে বিপুল উত্থান ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

একই সময়, ইউনাইটেড নেশনস সিকিউরিটি কাউন্সিল (ইউএনএসসি) ইরানের হামলা প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়াল হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ান রিপোর্ট করে যে ইরান শুধু সামরিক উদ্দেশ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে না! বরং নৌ ও বাণিজ্যিক যান চলাচলসহ অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ করে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করছে। যা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের কৌশলটি কেবল সরাসরি ধ্বংসাত্মক হামলা নয়। বরং এটি স্যাটুরেশন স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত! যেখানে বহুস্তরীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা হয় এবং রাডার ও ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমগুলোকে চাপের মুখে ফেলা হয়। দক্ষিণ উপসাগরীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ১৪৪০টিরও বেশি ড্রোন এবং ২৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। যেখানে অনেকগুলোই প্রতিরক্ষা সিস্টেমে ধরা পড়ে বা ধ্বংস হয়, কিন্তু কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেসামরিক এলাকাও আঘাত পায়।

একে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে এই হামলায় তেল ও গ্যাস খাতে অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ শুধু যুদ্ধের খেলা নয় বরং জল ও শক্তি সরবরাহকে আইনগত পরিবেশেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বহু সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হচ্ছে। অপরদিকে ইউরোনিউজ রিপোর্ট করছে যে, ইরান সমর্থিত আক্রমণে হামলার ছোট ছোট ঢেউও বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যেখানে ড্রোন আঘাতে বিমানের যাত্রী চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই খাতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও উগ্র। উদাহরণস্বরূপ, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মার্কিন যুদ্ধকে অান্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপিয়ান নিরাপত্তা ও শক্তি বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এসব বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, ইরান শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যগুলোই নিশানা করছে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোকে পরীক্ষা করছে।

সমষ্টিগতভাবে, ইরানের কৌশল এ সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চিন্তা ব্যবস্থা করেছে যে এটি মডুলার স্ট্রাইক ও বিকেন্দ্রীকৃত কমান্ড স্ট্রাকচারের মতো আধুনিক কৌশলগুলোকে বাস্তবে প্রয়োগ করছে। যার ফলে প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কগুলোকে একাধিক শটে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রতিক্রিয়া সময় কমানো হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান লক্ষ্যসমূহকে বিভক্ত করে সেগুলোর মাঝে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ স্তরগুলোকে কম কার্যকর করার চেষ্টা করছে— একটি কৌশলগত পদ্ধতি যা আধুনিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে।

একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়া রিপোর্টে যেমন দ্য অ্যাথলেটিক কাউন্সিলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সংঘাত শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয় নয়; একে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি একসাথে জড়িত হয়েছে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশই সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের পাশাপাশি আইএসডব্লিউ (ও ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট‑র রিপোর্টও উল্লেখ করছে যে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ও ড্রোন সক্ষমতা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু ইরান এখনও তার আসন্ন ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নতুন কৌশলগুলো অন্বেষণ করছে।

অর্থনৈতিক স্তরেও ইরানের এই কৌশল আন্তর্জাতিক বাজারকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে। গ্লোবাল তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি আক্রমণ ও হরমুজ সংকটের কারণে তেলের দাম অস্থিরভাবে ওঠানামা করছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান এই কৌশল প্রয়োগ করে শুধু সামরিক সুবিধা অর্জন করছে না, বরং প্রতিরক্ষার খরচ বাড়িয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অনিশ্চয়তায় ফেলছে, যা পরিণামে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে নতুনভাবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করবে।

এ সংঘাত শুধুমাত্র সামরিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আইন ও ভূ-রাজনীতির বহুমাত্রিক ক্ষেত্রগুলোকে স্পর্শ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলি এই পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করার সময় বারবার উল্লেখ করেছে যে ইরানের কৌশল ডিফেন্স ভাঙার নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে— যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক স্ট্রাইক, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে টেকনিক্যালভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং সেই সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে কঠিন প্রশ্নে ফেলছে।

কয়েক ঘণ্টায় ২১টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের

দুবাইতে আবাসিক ভবনে ড্রোনের আঘাতে আগুন

দুই শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত ও আহতের দাবি ইরানের

ইরানে আঘাত করার মতো আর কিছুই বাকি নেই: ট্রাম্প

আবারও ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ

ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে এনেছে স্পেন

আমেরিকা-ইসরাইলের সামরিক স্থাপনার তথ্য দিতে ইরানের আহ্বান

হিজবুল্লাহর শত রকেটে ইসরাইলের আয়রন ডোমও থমকে

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনায় সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা

ইরানের কঠোর বার্তা, যুদ্ধ চলবে তবে...