চলতি মাসে টানা দশ দিন দাবানলে পুড়েছে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস। ভয়াবহ সেই দাবানলে পুড়েছে ৪০ হাজার ৪৬২ একর এলাকা। ধ্বংস হয়েছে হাজারো ঘরবাড়ি, স্থাপনা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন, আহত হয়েছেন ২২ জন।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো নতুন করে দাবানল শুরু হয়েছে শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়। তীব্র বাতাসের কারণে নতুন করে সৃষ্ট এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫ হাজার একর বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে। গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফায়ার বিভাগ জানিয়েছে, কাউন্টির কাস্টেইক লেক অঞ্চলে নতুন দাবানলের ফলে বিশাল আকারের কালো ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাটি লস অ্যাঞ্জেলেস শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন দাবানল ‘ইটন ফায়ার’-এর অর্ধেক আয়তনে পৌঁছেছে। যেখানে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ মানুষ বসবাস করে। তাৎক্ষণিকভাবে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে।
কাস্টেইক লেক এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের ‘জীবন হুমকির মুখে’। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বেশিরভাগ এলাকায় এখনো শক্তিশালী শুষ্ক বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে চরম অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অঞ্চলটি রেড-ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় রয়েছে।
দাবানল কীভাবে শুরু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আবহাওয়াবিদরা বলেন, শক্তিশালী বাতাস ও কম আর্দ্রতার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য এবং ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জরুরি অবস্থা বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ১০০ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন ঝড়ের কারণে ভারী তুষারপাত এবং বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত সেখানকার জনজীবন। আকস্মিক এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেক্সাসের মহাসড়ক এবং বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ভারী তুষারপাতের কারণে গাড়ি দুর্ঘটনা এবং তীব্র শীতে টেক্সাসে সাতজন, আলাব্যামায় দুই এবং জর্জিয়ায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুই হাজারেরও বেশি এবং বুধবার ১৮শ’রও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।