ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে । এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাব, উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থা এবং দ্রুত যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আইর ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের পরিণতি বিশ্লেষণ করেছেন।
আইরের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সফট পাওয়ার’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই সামরিক অভিযান চালানোর পথ বেছে নেওয়ায় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো এখন নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আরো ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।
তার ভাষায়, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এখন কার্যত ‘আমেরিকা অ্যালোন’-এ পরিণত হয়েছে।
আইর বলেন, ওয়াশিংটন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তার সামরিক ‘হাতিয়ার’ ব্যবহার করেছে, কিন্তু এর মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায়নি। ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দ্বিতীয়ত, ইরান এখন আর বিশ্বাস করে না যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মেনে নিলে মার্কিন চাপ কমে আসবে। তেহরানের ধারণা, পারমাণবিক কর্মসূচি বা অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দেওয়াই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য নয়; বরং প্রকৃত লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’।
ফলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের হাতে আগের তুলনায় অনেক কম কূটনৈতিক সুযোগ বা চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করছেন আইর।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ