অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে হামলা চালিয়েছে। রোববার ইসরাইলি পুলিশের সহায়তায় হামলা চালায় তারা। এদিকে, আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইহুদিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একে উসকানিমূলক আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটি।
জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ওমর রাজুব বলেন, চরমপন্থি দখলদার সরকারের নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি পতাকা উত্তোলন এবং উসকানিমূলক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।
তিনি আরো বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হলো অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বলপূর্বক নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থাকে দুর্বল করা।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আল-আকসা মসজিদের ভেতরে বসতি স্থাপনকারীদের কার্যকলাপ একটি চলমান ঔপনিবেশিক পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য হলো মসজিদটির স্থানিক ও কালিক বিভাজন, শহরটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলে এর ইহুদিকরণ এবং এর আইনি, সাংস্কৃতিক ও জনতাত্ত্বিক চরিত্র পরিবর্তন করা।’
রাজুব বলেছেন, পুলিশের সুরক্ষায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আল-আকসা মসজিদে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ফিলিস্তিনি ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ বিশ্বাসীর অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সব দেশকে তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে এবং অধিকৃত জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি জনগণ ও পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে চলমান এই লঙ্ঘন বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সম্পূর্ণ ১৪৪ ডুনাম এলাকা শুধু মুসলমানদের ইবাদতের স্থান।
২০০৩ সাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ও আসরের নামাজের সময় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের একতরফাভাবে মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের এসব কর্মকাণ্ড ইসলামের অন্যতম পবিত্র এই চত্বরের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড/আল জাজিরা
আরএ