সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরাইলকে যদি জমি দিতেই চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। কারণ নিউ জার্সির মালিক তিনি, কিন্তু গোলান মালভূমির মালিক সিরিয়ার জনগণ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে এক আলোচনায় আল-শারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন, দেশটিকে সমর্থন করেছেন এবং সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তার সঙ্গে আমার বিশেষ একটি সম্পর্ক রয়েছে।’
হোয়াইট হাউসে এক সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার ওই রসিকতার কথা উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি ইসরাইলকে কিছু জমি দিতে এতটাই আগ্রহী হন, তাহলে নিউ জার্সি কেন দিয়ে দিচ্ছেন না কেন?’
তিনি আরো বলেন, নিউ জার্সি ডেমোক্র্যাটদের, কারণ তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেয় না। তাই ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া ভালো হবে।
আল-শারা বলেন, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক, কিন্তু তিনি গোলান মালভূমির মালিক নন। এই রসিকতা বাদ দিলেও বিষয়টি হলো, গোলান মালভূমি সেখানকার জনগণের। কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই তা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ এলাকা ইসরাইলের দখলে রয়েছে। ১৯৮১ সালে ইসরাইল ওই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে এ পদক্ষেপকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ ঘোষণা করা হয়।
বেশির ভাগ দেশ গোলান মালভূমিকে ইসরাইলি সামরিক দখলাধীন সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া ওই অঞ্চলের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আরএ