হোম > বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে কানাডা

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, মহাকাশ, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।

রোববার কানাডার আটলান্টিক উপকূলের কাছে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপপুঞ্জ সাঁ-পিয়ের ও মিকেলনে দুই নেতা বৈঠক করেন। কানাডার কোনো প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য এটি ছিল প্রথম সফর। ম্যাক্রোঁর এই সফর ২০১৪ সালের পর ওই অঞ্চলে প্রথম ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরও ছিল।

বৈঠকের পর কার্নি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষয় এবং সার্বভৌমত্বের ওপর নতুন হুমকির কারণে বিশ্ব নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব পরিস্থিতিতে কানাডা ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার সময় এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, দুই দেশ মহাকাশ, জলবায়ু ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক আইন, অবাধ ও ন্যায্য বাণিজ্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিজ্ঞানের ভূমিকার বিষয়ে দুই দেশের একই ধরনের অবস্থান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই নেতার এই বৈঠকের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বর্তমান সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের পর কানাডা ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ হওয়ার প্রস্তাব দেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ‘অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ বলতে ইইউর আইনে নির্দিষ্ট কোনো মর্যাদা এখনো নেই।

কানাডা ও ইইউ ইতোমধ্যে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। নতুন উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপে কানাডার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ম্যাক্রোঁ বলেন, কানাডার এলএনজি প্রকল্পগুলো ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাঁ-পিয়ের ও মিকেলনের অবস্থানও বৈঠকটির প্রতীকী গুরুত্ব বাড়িয়েছে। কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ ফ্রান্সের একটি ভূখণ্ড। আর্কটিক অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান এবং কানাডার সঙ্গে জ্বালানি ও অন্যান্য সহযোগিতার কারণে ফ্রান্সের কাছে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও এ অঞ্চলে আলোচনা তৈরি হয়। ওই ছবিতে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ডসহ উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় ঢাকা দেখানো হয়েছিল। এতে সাঁ-পিয়ের ও মিকেলন এবং ফ্রান্সের ক্যারিবীয় ভূখণ্ডও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ বিষয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, এসব ভূখণ্ড ফ্রান্সের—এ বিষয়টি বারবার নতুন করে বলতে হবে না।

কানাডার ইউরোপমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা শুধু ফ্রান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রধানমন্ত্রী কার্নি এর আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বলেছেন, কানাডা ও ইউরোপ নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে গভীর সহযোগিতা করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ও ডিজিটাল বাণিজ্যকে তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে কানাডা-ইইউ সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। ইইউ ও কানাডার বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা সিইটিএ এখনো ইইউর সব সদস্যরাষ্ট্র অনুমোদন করেনি। ফলে নতুন কোনো বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ে তুলতে সময় লাগতে পারে।

ফ্রান্স ও কানাডার সাম্প্রতিক উদ্যোগ তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের মধ্যে সীমিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময়ে কানাডা ইউরোপের সঙ্গে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। একই সময়ে ফ্রান্সও কানাডার জ্বালানি ও অন্যান্য সক্ষমতাকে ইউরোপের স্বার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ দেখছে।

মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির ইন্তেকাল

ইরানের জন্য আলোচনার দরজা খোলা: জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সুইডেন থেকে ৪৫৮ ব্রিটিশ নাগরিককে অপসারণ, স্ত্রী-ঘর হারিয়ে ফিরলেন চার্লস

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ফের বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অনিশ্চিত গন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান: আইআরজিসি

তিন সন্তান হত্যার ঘটনায় মুখ খুললেন প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, কমছে জন্মহার

চীনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে মি টু আন্দোলন, প্রকাশ্য তৎপরতা কমছে নারীবাদীদের

মস্কোয় ড্রোন হামলার জেরে কিয়েভে তীব্র হামলার হুমকি রাশিয়ার