পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিল করবে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মিছিলকে সামনে রেখে দেশটির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মহাসড়কসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এসব সড়ক। রাজধানীতে দুই হাজারের বেশি কনটেইনার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সড়ক অবরোধ । পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, মিছিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। এরই মধ্যে ইমরান খানের তিন বোনসহ পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা-কর্মী ও আইনপ্রণেতাকে আটক করা হয়েছে। সরকার বলছে, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে এসব পদক্ষেপ । পিটিআইয়ের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাদের দমন করতেই ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।
সরকারের আশঙ্কার পেছনে পিটিআইয়ের অতীত আন্দোলনের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও ইসলামাবাদমুখী পিটিআইয়ের আন্দোলন নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়; হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকার ও পিটিআইয়ের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৩টি আসন পেলেও সরকার গঠন করতে পারেনি। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষ প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন ।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং এখনো পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। পিটিআইয়ের জনপ্রিয়তা, ইমরানের কারাবন্দিত্ব এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
এদিকে পাকিস্তানে জ্বালানির দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রতি লিটারে প্রায় ৫১ রুপি বেড়ে ৩৯৩ দশমিক ৭৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীও ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি দিয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের কঠোর অবস্থান তাই শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলার প্রস্তুতি নয়; রাজনৈতিক বিরোধ, ইমরান খানের কারাবাস, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে পাকিস্তানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ